Video Message from Bangladesh to COP-22

During UNFCCC's 22nd Conference of Parties (COP-22) in Marrakesh, Morocco, Coastal Livelihood and Environmental Action Network (CLEAN) along with Oxfam in Bangladesh and Campaign for Sustainable Rural Livelihoods (CSRL) organized a video message campaign to the COP-22 leaders demanding Climate Justice for women farmers and the most vulnerable countries like Bangladesh. Here are some of the video messages.

1. Member of Parliament Alhajj Mizanur Rahman Mizan
Member of Parliament from Khulna-2 constituency Alhajj Mizanur Rahman Mizan said, as the people of coastal Bangladesh are the most severe victims of climate change, we are entitled to receive only compensation from the developed countries, not loan. Our prime minister raised the issues in UN and Bangladesh Parliament several times. We want to build resilience of the vulnerable people by using those reparation funds. He also demanded not to include loan providing institutions in climate finance.

2. Environmental Economist Professor Anowarul Quadir





‘বাঘ’ নিয়ে সুন্দরবন রক্ষার দাবি খুলনায়

দৈনিক প্রথম আলো
খুলনা অফিস | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৬

দুই পাশে দুই শাবক নিয়ে মা বাঘ বসে আছে। পেছনে ব্যানারে লেখা ‘তোমাদের বিদ্যুতের জন্য আমাদের আবাস ধ্বংস করো না’।

গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা শহরের শহীদ হাদিস পার্কে বাঘের তিনটি প্রতিকৃতি নিয়ে অভিনব এক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে কয়েকটি সংগঠন। সুন্দরবনের পাশে বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দূষণকারী শিল্পকারখানা বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্ম জোট (ক্লিন), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ক্লিন-টিআইবি-সনাক ওয়ার্কিং গ্রুপের আহ্বায়ক কুদরত-ই-খুদা। পরিচালনা করেন ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকাগুলোতে একের পর এক শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার পাশেই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও ওরিয়ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, এলপিজি প্ল্যান্ট, খাদ্যগুদামসহ প্রায় দেড় শ শিল্পপ্রতিষ্ঠান সুন্দরবনের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকাসহ (ইসিএ) সংলগ্ন ভূমিতে দেড় শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মিত হয়েছে বা হতে যাচ্ছে।


লিংক : http://m.prothom-alo.com/bangladesh/article/965305/%E2%80%98%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%98%E2%80%99-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8-%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF-%E0%A6%96%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F

‘আমাদের আবাসস্থল ধ্বংস করো না’

সূবর্ণভূমি : www.subornobhumi.com
01/09/2016


 খুলনা অফিস : মা বাঘ দুটো বাচ্চা নিয়ে বসে আছে। তাদের পেছনে ব্যানার। সেখানে আহ্বান জানানো হচ্ছে, ‘তোমাদের বিদ্যুতের জন্য আমাদের আবাসস্থল ধ্বংস করো না।’ ব্যানার ধরে দাঁড়িয়েছেন তরুণ পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ। পেছনের পটভূমিতে জাতির গৌরবের প্রতীক শহীদ মিনার।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে শহীদ মিনারের পাদদেশে এভাবেই সুন্দরবনের পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দুষণকারী শিল্প কারখানা বন্ধ করার দাবি জানালো সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার।

উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। ক্লিন-টিআইবি-সনাক ওয়ার্কিং গ্রুপের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদার সভাপতিত্বে কর্মসূচি পরিচালনা করেন হাসান মেহেদী।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকাগুলোতে একের পর এক গড়ে উঠছে শিল্প-কারখানা। প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকার পাশেই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও ওরিয়ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, এলপিজি প্ল্যান্ট, খাদ্যগুদামসহ প্রায় দেড়শ’ শিল্প প্রতিষ্ঠান সুন্দরবনের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)-সহ সংলগ্ন ভূমিতে দেড় শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মিত হয়েছে বা হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তেলবাহী ট্যাঙ্কার, গম, সার ও কয়লাবাহী জাহাজডুবির কারণে সুন্দরবনের অস্তিত্ব নিয়ে নানারকম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরপর যত্রতত্র অপরিণামদর্শী দুষণকারী শিল্প-প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হলে সুন্দরবনের উপর তার অমোচনযোগ্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুততর সময়ের মধ্যে পরিবেশ আইন, বন আইন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বক্তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ শিল্প-কারখানা নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধ করার দাবি জানান।

বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য বনের তুলনায় সুন্দরবনের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ আলাদা। তাই সাধারণ বন সংরক্ষণের আইন দিয়ে বাদাবন সংরক্ষণ করা যাবে না। বক্তারা সুন্দরবন সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের দাবি জানান।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এমএ হালিম, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর মনোয়ারা বেগম, মাসাস-এর নির্বাহী পরিচালক শামীমা সুলতানা শিলু, অপরাজেয়-বাংলাদেশ’র মাহবুব আলম প্রিন্স, টিআইবির এরিয়া ম্যানেজার ফিরোজ উদ্দীন, স্বজন-এর এসকে সাহা, জেসমিন জালান, ফটোগ্রাফার সাঈদা ফারহানা, ইয়েস-এর সুস্মিত সরকার, মামুনুর রশীদ, আসাদুজ্জামান, ক্লিন-এর নাসিম রহমান কিরণ, সুবর্ণা ইসলাম দিশা, রেজাউল করিম জিতু, মাঈনুল ইসলাম সাকিব প্রমুখ।

লিংক : http://www.subornobhumi.com/view/%E2%80%98%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%B2-%E0%A6%A7%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%82%E0%A6%B8-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E2%80%99/4789

সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ

বাংলা ট্রিবিউন
খুলনা প্রতিনিধি, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৬


মা বাঘ দুটো বাচ্চা নিয়ে বসে আছে। তাদের পেছনে ব্যানারে আহ্বান ‘তোমাদের বিদ্যুতের জন্য আমাদের আবাস ধ্বংস করো না।’ ব্যানার ধরে দাঁড়িয়েছেন তরুণ পরিবেশ কর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। পেছনের পটভূমিতে জাতির গৌরবের প্রতীক শহীদ মিনার।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে এভাবেই সুন্দরবনের পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দূষণকারী শিল্প কারখানা বন্ধ করার দাবি জানালো সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার। উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। ক্লিন-টিআইবি-সনাক ওয়ার্কিং গ্রুপের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদার সভাপতিত্বে কর্মসূচিটি পরিচালনা করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে একের পর এক গড়ে উঠছে শিল্প-কারখানা। প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকার পাশেই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছাড়াও ওরিয়ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, এলপিজি প্ল্যান্ট, খাদ্য গুদামসহ প্রায় দেড়শ শিল্প প্রতিষ্ঠান সুন্দরবনের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)-সহ সংলগ্ন ভূমিতে দেড় শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মিত হয়েছে বা হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তেলবাহী ট্যাঙ্কার, গম, সার ও কয়লাবাহী জাহাজ ডুবির কারণে সুন্দরবনের অস্তিত্ব নিয়ে নানা রকম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরপরও যত্রতত্র শিল্প-প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হলে ব্যাপক হুমকির মুখে পড়বে সুন্দরবনের পরিবেশ। এ অবস্থায় দ্রুত পরিবেশ আইন, বন আইন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বক্তারা  সুন্দরবন সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নেরও দাবি জানান।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এম এ হালিম, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর মনোয়ারা বেগম, মাসাস- এর নির্বাহী পরিচালক শামীমা সুলতানা শিলু, অপরাজেয়-বাংলাদেশে’র মাহবুব আলম  প্রিন্স, টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার ফিরোজ উদ্দীন, প্রমুখ।


‘তোমাদের বিদ্যুতের জন্য আমাদের আবাস ধ্বংস করো না’

দৈনিক ইনকিলাব
২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

খুলনা ব্যুরো : মা বাঘ দুটো বাচ্চা নিয়ে বসে আছে। তাদের পেছনে ব্যানার। সেখানে আহ্বান জানানো হচ্ছে ‘তোমাদের বিদ্যুতের জন্য আমাদের আবাস ধ্বংস করো না’।

ব্যানার ধরে দাঁড়িয়েছেন তরুণ পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ। পেছনের পটভূমিতে জাতির গৌরবের প্রতীক শহীদ মিনার। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে এভাবেই সুন্দরবনের পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দূষণকারী শিল্পকারখানা বন্ধ করার দাবি জানালো সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার।

উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। ক্লিন-টিআইবি-সনাক ওয়ার্কিং গ্রুপের আহ্বায়ক এ্যাড. কুদরত-ই-খুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিটি পরিচালনা করেন ক্লিন’র প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এমএ হালিম, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর মনোয়ারা বেগম, মাসাস’র নির্বাহী পরিচালক শামীমা সুলতানা শিলু, অপরাজেয়-বাংলাদেশ’র মাহবুব আলম প্রিন্স, টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার ফিরোজ উদ্দীন, স্বজন’র এস.কে সাহা, জেসমিন জালান, স্বাধীন ফটোগ্রাফার সাঈদা ফারহানা, ইয়েস’র সুস্মিত সরকার, মামুনুর রশীদ, আসাদুজ্জামান, ক্লিন’র নাসিম রহমান কিরন, সুবর্ণা ইসলাম দিশা, রেজাউল করিম জিতু ও মাঈনুল ইসলাম সাকিব প্রমুখ।

সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে খুলনায় মানববন্ধন

দৈনিক কালের কণ্ঠ
খুলনা অফিস, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রতীকী বাঘ ও শাবককে সামনে রেখে সুন্দরবন রক্ষায় ব্যতিক্রম মানববন্ধন করেছে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকাসহ (ইসিএ) সংলগ্ন ভূমিতে দেড় শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মিত হয়েছে বা হতে যাচ্ছে। এভাবে একের পর এক শিল্প-কারখানা, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, ওরিয়ন বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাই অবিলম্বে এগুলো বন্ধ করতে হবে।

ক্লিন-টিআইবি-সনাক ওয়ার্কিং গ্রুপের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিটি পরিচালনা করেন ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা এম এ হালিম, মনোয়ারা বেগম, শামীমা সুলতানা শিলু, মাহবুব আলম প্রিন্স, ফিরোজ উদ্দীন, এস কে সাহা, জেসমিন জালান, সাঈদা ফারহানা, সুস্মিত সরকার, মামুনুর রশীদ, আসাদুজ্জামান, ক্লিনের নাসিম রহমান কিরন, সুবর্ণা ইসলাম দিশা, রেজাউল করিম জিতু, মাঈনুল ইসলাম সাকিব প্রমুখ।

এআইআইবি ও বাংলাদেশের অবস্থান

হাসান মেহেদী, দৈনিক সমকাল
২০ জুলাই ২০১৬
-------------------------

দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চাপান-উতোর চলার পর সত্যি সত্যিই চালু হয়ে গেল এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি)। শুধু চালু হওয়াই নয়, ইতিমধ্যে ব্যাংকটি প্রথম একগুচ্ছ ঋণ দিয়েও ফেলেছে। ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশও একটি ঋণ পেয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ পরিসঞ্চালন ব্যবস্থা হালনাগাদ ও সম্প্রসারণ প্রকল্প (বিডিএসইউপি) নামের এ ঋণটির আওতায় রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ৮৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপন, দুটি সাব-স্টেশন আধুনিকায়ন এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন এলাকাগুলোতে ২৫ লাখ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।

এআইআইবি প্রতিষ্ঠার পেছনে প্রধান ভূমিকায় রয়েছে সমাজতান্ত্রিক চীন। এক সময় চরম দারিদ্র্যে নিপতিত চীন বিগত তিন দশকজুড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে মহাপরাক্রমশালী হয়ে উঠেছে। অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন, রফতানি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চীনকে দিয়েছে বিরাট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ। অঙ্কটা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় পাঁচগুণ। ইতিমধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রাশিয়া ষষ্ঠ, ভারত অষ্টম ও ব্রাজিল নবম স্থানে পেঁৗছে গেছে।

মধ্যম আয়ের দেশ হলেও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির আকার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এসব দেশকে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এদের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ করার আন্তর্জাতিক বাজার যেমন দরকার, তেমনি আন্তর্জাতিক আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষমতায় তারা নিজস্ব অবস্থানও চায়। আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ)। এছাড়া এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আর্থিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। পরিবর্তিত অর্থনৈতিক ক্ষমতার অনুপাতে এসব বনেদি প্রতিষ্ঠানে নব্য ধনীরা নিজস্ব অবস্থান করে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু বনেদি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা জাপান। ২০০০ সালের পর কয়েকবার অনুরোধ জানালেও বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিতে চীন বা ভারতের শেয়ারের সংখ্যা বাড়াতে রাজি হয়নি নিয়ন্ত্রক দেশগুলো।

তাই অবশেষে তৈরি করতে হলো নতুন ব্যাংক। অগ্রসর উন্নয়নশীল দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার যৌথ উদ্যোগে গঠিত হলো ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা ব্রিকস ব্যাংক। ব্রিকস্ ব্যাংকের মাধ্যমে পরস্পরের উন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও চীনা পুঁজির বিপুল অংশ পড়ে রইল অলস অবস্থায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রীয় বন্ড ক্রয়, পৃথিবীজুড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি উন্নয়ন প্রকল্প এবং চীনা বেসরকারি ব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের পরও অলস পড়ে রইল বিপুল পরিমাণ অর্থ। এদিকে ২০১১ সালে এডিবি এক প্রাক্কলনে জানাল যে, অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এশিয়ায় ৮ ট্রিলিয়ন ডলার বা ৬২৪ লাখ কোটি টাকা দরকার। তাই তো ২০১৪ সালে বোয়াও সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হলো, এশিয়ার অবকাঠামো উন্নয়নে গঠিত হবে নতুন আরেকটি বহুপক্ষীয় ব্যাংক।

৫৭টি দেশের অংশগ্রহণে ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ সৃষ্টি হলো নতুন ব্যাংক এআইআইবি। এ দেশগুলোর ৩৭টি এশীয়, ১৭টি ইউরোপীয়, দুটি আফ্রিকান এবং একটি দক্ষিণ আমেরিকান দেশ। দেশগুলোর মধ্যে যেমন সম্পদের পার্থক্য আছে, তেমনি নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রেও আছে বিরাট ফারাক। 'সমাজতান্ত্রিক' চীনের নেতৃত্বে এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত বলে অনেকেই আশা করেছিলেন এআইআইবিতে 'এক দেশ এক ভোট' নীতি অনুসরণ করা হবে। কিন্তু তা হয়নি, পুঁজি লগি্নকারী অন্যান্য বহুজাতিক ব্যাংকের মতো এখানেও শেয়ারের বিপরীতে ভোটাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

নতুন ব্যাংক এআইআইবি যেহেতু অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেহেতু ধারণা করাই যায় যে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকেই এর বাড়তি নজর থাকবে। প্রথম অনুমোদিত হওয়া ঋণগুলোর দিকে তাকালেও এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু আশঙ্কার জায়গা হলো, বাংলাদেশসহ এসব দেশের নাগরিক ও পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। কোনো কোনো দেশে সুরক্ষা বিষয়ক আইনি কাঠামো থাকলেও কদাচিৎ তার প্রয়োগ হয়।

এআইআইবিতে বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা সদস্যপদ গ্রহণ করেছে। ব্যাংকটিতে দক্ষিণ এশিয়ার সম্মিলিত ভোট ৬.৮২ শতাংশ এবং সেখানে বাংলাদেশের ভোট ০.৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে শুধু চীনের ভোট ২৬.৬ শতাংশ এবং চীনসহ ভারত, রাশিয়া, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্স একত্রিত হয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কেননা এই সাতটি দেশের ভোট ৫২ শতাংশ, যা বাকি ৫০টি দেশের তুলনায় বেশি। অপরদিকে কম্বোডিয়া, জর্জিয়া, লাওস, তাজিকিস্তান, মাল্টা বা মালদ্বীপের মতো ২০টি দেশ একত্র হয়েও নিজস্ব মতামত প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না। এ শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যাংকটির 'পরিবেশগত ও সামাজিক ফ্রেমওয়ার্ক' বা ইএসএফ। এ নীতিমালা বাংলাদেশের পরিবেশ আইন ও নীতিমালা তো বটেই, এডিবি বা বিশ্বব্যাংকের সংশিল্গষ্ট নীতিমালার চেয়েও দুর্বল।

সংশিল্গষ্ট প্রকল্পটি বাংলাদেশের আইনানুযায়ী 'লাল' শ্রেণিভুক্ত অর্থাৎ এ প্রকল্পের জন্য 'পরিবেশগত প্রভাব নিরীক্ষা' ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রয়োজন। অপরদিকে ইএসএফ অনুসারে এ প্রকল্প 'বি' শ্রেণিভুক্ত অর্থাৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধু 'প্রাথমিক পরিবেশ সমীক্ষা'ই যথেষ্ট। ইএসএফ অনুসারে, প্রকল্পের ফলে পরিবেশগত মান বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে এআইআইবি কর্তৃপক্ষ সংশিল্গষ্ট জাতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে। এছাড়া এআইআইবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় নাগরিক সমাজের সুযোগ নেই বললেই চলে। গত মাসে (জুন ২০১৬) অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় বাছাইকৃত নাগরিক প্রতিনিধি ব্যতীত প্রবেশাধিকার ছিল ভয়াবহ রকম সীমাবদ্ধ।

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। সেজন্য অভ্যন্তরীণ উৎসের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকেও ঋণ গ্রহণ করতে হয়। সাধারণত বহুপক্ষীয় ব্যাংক এডিবি বা বিশ্বব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন সময়ে ঋণের কোনো সুদ দিতে হয় না। কিন্তু এআইআইবির ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নকালেও বার্ষিক শতকরা ১.১৫ হারে সার্ভিস চার্জ বা সুদ পরিশোধ করতে হবে। ফলে এ ঋণ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আগেই ব্যাংকটিকে সুবিধা দিয়ে যেতে হবে।

তাই উন্নয়নের জন্য এডিবিসহ সনাতনী বহুপক্ষীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে দর কষাকষির জন্য এআইআইবির সুযোগটা যেমন ব্যবহার করা দরকার, তেমনি নতুন এই ব্যাংক যেন বাংলাদেশের ওপর ঋণ ও সুদের নতুন বোঝা চাপিয়ে না দেয়, সেজন্য সতর্ক থাকা দরকার।

এআইআইবি’র ঋণ : কী হবে বাংলাদেশের অবস্থান?

হাসান মেহেদী
-----------------------------
দীর্ঘদিন ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চাপান-উতোর চলার পর সত্যি সত্যিই চালু হয়ে গেল এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি)। শুধু চালু হওয়াই নয়, ইতোমধ্যে ব্যাংকটি প্রথম একগুচ্ছ ঋণ দিয়েও ফেলেছে। ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সাথে সাথে বাংলাদেশও একটি ঋণ পেয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ পরিসঞ্চালন ব্যবস্থা হালনাগাদিকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্প (বিডিএসইউপি) নামের এ ঋণটির আওতায় রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি থেকে টঙ্গী পর‌্যন্ত ৮৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপন, দুটি সাব-স্টেশন আধুনিকায়ন এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন এলাকাসমূহে ২৫ লাখ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে।

এআইআইবি প্রতিষ্ঠার পেছনে প্রধান ভূমিকায় রয়েছে সমাজতান্ত্রিক চীন। এক সময়ে চরম দারিদ্র্যে নিপতিত চীন বিগত তিন দশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে মহাপরাক্রমশালী হয়ে উঠেছে। ১৯৮০’র দশক থেকে ‘সমাজতান্ত্রিক’ চীনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আর ‘সমাজতান্ত্রিক’ থাকেনি। আভ্যন্তরীণ অর্থনীতি উদারীকরণ, রপ্তানি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চীনকে দিয়েছে বিরাট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ। অঙ্কটা ৩ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের তুলনায় এটা দ্বিগুণেরও বেশি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় পাঁচগুণ। ইতোমধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রাশিয়া ষষ্ঠ, ভারত অষ্টম ও ব্রাজিল নবম স্থানে পৌঁছে গেছে।

মধ্য আয়ের দেশ হলেও আভ্যন্তরীণ অর্থনীতির আকার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এসব দেশকে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এদের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ করার আন্তর্জাতিক বাজার যেমন দরকার, তেমনি আন্তর্জাতিক আর্থরাজনৈতিক ক্ষমতায় তারা নিজস্ব অবস্থানও চায়। আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বনেদি কেন্দ্র হলো বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ)। এছাড়া এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আর্থিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। পরিবর্তিত অর্থনৈতিক ক্ষমতার অনুপাতে এসব বনেদি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নব্যধনীরা নিজস্ব অবস্থান করে নিতে চেয়েছিলো। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা জাপান। ২০০০ সালের পর কয়েকবার অনুরোধ জানালেও বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিতে চীন বা ভারতের শেয়ারের সংখ্যা বাড়াতে রাজি হয়নি নিয়ন্ত্রক দেশগুলো।

তাই অবশেষে তৈরি করতে হলো নতুন ব্যাংক। অগ্রসর উন্নয়নশীল দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার যৌথ উদ্যোগে গঠিত হলো ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা ব্রিকস এনডিবি। অংশগ্রহণকারী পাঁচটি দেশের নামের আদ্যক্ষর যুক্ত করেই তৈরি হয়েছে ব্রিকস্ শব্দটি। ব্রিকস্ ব্যাংকের মাধ্যমে পরস্পরের উন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হলেও চীনা পুঁজির একটি অংশ পড়ে রইলো অলস অবস্থায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রীয় বন্ড ক্রয়, পৃথিবীজুড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি উন্নয়ন প্রকল্প এবং চীনা বেসরকারি ব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ করেও অলস টাকা কমানো যাচ্ছিলো না। এদিকে ২০১১ সালে এডিবি এক প্রাক্কলনে জানালো যে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এশিয়ায় ৮ ট্রিলিয়ন (লাখ কোটি) ডলার দরকার। সেই সুযোগটা নিয়েই ২০১৪ সালে বোয়াও সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হলো এশিয়ার অবকাঠামো উন্নয়নে গঠিত হবে নতুন বহুপাক্ষিক ব্যাংক।

ওয়াশিংটন ও টোকিও বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও তাদের মিত্রদেশসহ ৫৭টি দেশের অংশগ্রহণে ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ সৃষ্টি হলো নতুন ব্যাংক, এআইআইবি। এ দেশগুলোর ৩৭টি এশীয়, ১৭টি ইউরোপীয়, ২টি আফ্রিকান এবং ১টি দক্ষিণ আমেরিকান দেশ। দেশগুলোর মধ্যে যেমন সম্পদের পার্থক্য আছে তেমনি নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রেও আছে বিরাট ফারাক। সদস্য দেশ লুক্সেমবার্গের বার্ষিক গড় মাথাপিছু আয় ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার যা নেপালের ক্ষেত্রে মাত্র ৭০০ ডলার। আবার নরওয়ে নাগরিক অধিকার ও পরিসেবার নিরিখে সারা পৃথিবীর প্রথম অবস্থানে আর বার্মা (মায়ানমার) রয়েছে নাগরিক পরিসেবার দিক দিয়ে ১১৯তম স্থানে। ‘সমাজতান্ত্রিক’ চীনের নেতৃত্বে এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত বলে অনেকেই আশা করেছিলেন এআইআইবিতে ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি অনুসরণ করা হবে। কিন্তু তা হয়নি, পুঁজিলগ্নিকারী অন্যান্য বহুজাতিক ব্যাংকের মতো এখানেও শেয়ারের বিপরীতে ভোটাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

নতুন ব্যাংক এআইআইবি যেহেতু অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সেহেতু ধারনা করাই যায় যে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকেই এর বাড়তি নজর থাকবে। প্রথম অনুমোদিত হওয়া ঋণগুলোর দিকে তাকালেও এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু আশঙ্কার জায়গা হলো, বাংলাদেশসহ এসব দেশের নাগরিক ও পরিবেশ সুরক্ষা-ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। কোনো কোনো দেশে সুরক্ষা বিষয়ক আইনি কাঠামো থাকলেও কদাচিৎ তার প্রয়োগ হয়। অপরদিকে পৃথিবীজুড়ে নাগরিক অধিকারের তোয়াক্কা না করা এবং দুষণের জন্য চীনা রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগে রয়েছে। পৃথিবীব্যাপী, বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে, চীনা কোম্পানিগুলো সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো অবকাঠামো নির্মাণ করছে যার ফলে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছে। বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর মধ্যে আদিবাসীদের সংখ্যাই বেশি।

সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো সম্প্রতি পাশ হওয়া ‘এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক আইন ২০১৬’তে এআইআইবিকে দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) দেয়া হয়নি। এখন বাংলাদেশে শুধুমাত্র এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)’রই দায়মুক্তি রয়েছে। দায়মুক্তি নেই বলেই সম্ভবত এআইআইবিও একটু নিরাপদ পথে হাঁটতে চাইছে। বাংলাদেশে বরাদ্দকৃত ঋণের প্রকল্পটি বিদ্যুৎ পরিসঞ্চালন-ব্যবস্থা সম্পর্কিত। ২০১০ সালে জাতীয় সংসদে গৃহীত এক আইনানুসারে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে কোনো মামলা করা যাবে না। এআইআইবি সেই সুযোগটাই গ্রহণ করেছে। অন্যান্য দেশেও যে প্রকল্পগুলো এআইআইবি’র ঋণে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তার সবগুলোই বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি’র সঙ্গে যৌথভাবে অর্থায়ন করা হচ্ছে যাতে সুরক্ষা নীতিমালার পাশাপাশি বৈধতার প্রশ্নেও এআইআইবি কোনো বিতর্কের মধ্যে না পড়ে।

এআইআইবিতে বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সদস্যপদ গ্রহণ করেছে। ব্যাংকটিতে দক্ষিণ এশিয়ার সম্মিলিত ভোট ৬.৮২ শতাংশ এবং সেখানে বাংলাদেশের ভোট ০.৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে শুধুমাত্র চীনের ভোট ২৬.৬ শতাংশ এবং চীনসহ ভারত, রাশিয়া, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্স একত্রিত হয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেননা এই সাতটি দেশের ভোট ৫২ শতাংশ যা বাকি পঞ্চাশটি দেশের তুলনায় বেশি। অপরদিকে, কম্বোডিয়া, জর্জিয়া, লাওস, তাজিকিস্তান, মাল্টা বা মালদ্বীপের মতো ২০টি দেশ একত্রিত হয়েও নিজস্ব মতামত প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না। এ শঙ্কা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যাংকটির ‘পরিবেশগত ও সামাজিক ফ্রেমওয়ার্ক’ বা ইএসএফ। এ নীতিমালা বাংলাদেশের পরিবেশ আইন ও নীতিমালা তো বটেই, এডিবি বা বিশ্বব্যাংকের সংশ্লিষ্ট নীতিমালার চেয়েও দুর্বল।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটি বাংলাদেশের আইনানুযায়ী ‘লাল’ শ্রেণিভূক্ত অর্থাৎ এ প্রকল্পের জন্য ‘পরিবেশগত প্রভাব নিরীক্ষা’ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রয়োজন। অপরদিকে ইএসএফ অনুসারে এ প্রকল্প ‘বি’ শ্রেণিভূক্ত অর্থাৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধুমাত্র ‘প্রাথমিক পরিবেশ সমীক্ষা’ই যথেষ্ঠ। ইএসএফ অনুসারে, প্রকল্পের ফলে পরিবেশগত মান বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে এআইআইবি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট জাতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে। একই ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক বা এডিবি’র ‘সুরক্ষা নীতিমালা’ অনুসারে ক্ষতিগ্রস্থ জনসাধারণকে ক্ষতিপূরণ দেয়া বা সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বন্ধ করে দেয়ার বিধান রয়েছে, যদিও তা সব সময় মানা হয় না। এছাড়া এআইআইবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় নাগরিক সমাজের সুযোগও নেই বললেই চলে। গতমাসে (জুন ২০১৬) অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় বাছাইকৃত নাগরিক প্রতিনিধি ব্যতিত প্রবেশাধিকার ছিলো ভয়াবহরকম সীমাবদ্ধ।

পরিবেশ ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে চীনা কোম্পানির কুখ্যাতি, নাগরিক মতামত গ্রহণে চীনের কর্তৃপক্ষের অসহিষ্ণুতা এবং স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর দুর্বল আইনি কাঠামোর কারণে এআইআইবির প্রকল্পগুলো দুর্বল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পীড়াদায়ক হয়ে উঠতে পারে। বিডিএসইউপি প্রকল্পের নথিতে কোনো বাস্তুচ্যুতির ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি, যদিও ফুটপাথের হকার ও অস্থায়ী দোকানসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ এ প্রকল্পের কারণে নিশ্চিতভাবে ক্ষতির শিকার হবে।

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। সেজন্য আভ্যন্তরীণ উৎসের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকেও ঋণ গ্রহণ করতে হয়। সেদিক দিয়ে এআইআইবি বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক অর্থায়নের একটি নতুন উৎস হিশেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটা একদিক দিয়ে মন্দের ভালো। উৎস ঋণ, পরিসেবা ঋণ ও দ্বিপাক্ষিক ঋণের চেয়ে বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদের হার যেমন কম তেমনি পরিশোধের মেয়াদ ও শর্তাবলীও কিছুটা শিথিল থাকে। ঋণের নতুন উৎস পাওয়া গেলে আভ্যন্তরীণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের নেয়া ঋণের চাপও কিছুটা কমবে। এতে দেশের আভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের হার বাড়তে পারে যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে বিনিয়োগের তুলনায় ভোগখাতে ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

সাধারণত বহুপাক্ষিক ব্যাংক এডিবি বা বিশ্বব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন সময়ে ঋণের কোনো সুদ দিতে হয় না। কিন্তু এআইআইবি’র ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবানকালেও বার্ষিক শতকরা ১.১৫ হারে সার্ভিস চার্জ বা সুদ পরিশোধ করতে হবে। ফলে এ ঋণ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করে অর্থনৈতিক সুবিধা পাবার আগেই ব্যাংকটিকে সুবিধা দিয়ে যেতে হবে। অন্যদিকে বনেদি ব্যাংকগুলোর ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৩০-৪০ বছর হলেও এআইআইবি’র ঋণ শোধ করতে হবে ২০ বছরের মধ্যে। এমনিতেই বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদখাত জাতীয় বাজেটের একক সর্বোচ্চ খাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং নতুন এই ঋণ জাতীয় বাজেটের উপর নতুন বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

তাই উন্নয়নের জন্য এডিবিসহ সনাতনী বহুপাক্ষিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে দর কষাকষির জন্য এআইআইবি’র সুযোগটা যেমন ব্যবহার করা উচিৎ তেমনি নতুন এই ব্যাংক যেন বাংলাদেশের উপর ঋণ ও সুদের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে না দিতে পারে সেজন্য সতর্ক থাকা দরকার। এ বিষয়ে সরকারের কৌশলও উন্মুক্ত করা প্রয়োজন।

 
হাসান মেহেদী, প্রধান নির্বাহী, উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)