দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন’র প্রয়োগ না হওয়ায় সাত বছরেও দুর্ভোগ কাটেনি আইলা দুর্গতদের টেকসই হয়নি বেড়িবাঁধ

Sundarban Samachar, মে ২৪, ২০১৬

Shamim Ashraf Shelley
-----------------------------

সর্বনাশা আইলা’র ৭ বছর পূর্তি হ’ল আজ। ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। দীর্ঘ সাত বছর পার হয়ে গেলেও সমন্বয় হিনতা ও নতুন আইন প্রয়োগ না করায় দাকোপ ও কয়রার সাড়ে ৩ হাজার দুর্গত জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ আজও কাটেনি। বেড়িবাঁধ ভেঙে পানির তোড়ে ঘরবাড়ি-জমিজমা বিলীন হয়ে যাবার পর বাধ্য হয়ে এসব পরিবার বাস করছে বেড়িবাঁধের উপর। আবার সেই বেড়িবাঁধ কেটে ও ফুটো করে বেড়িবাঁধের আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিতে নোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে নোনাপানির চিংড়ি চাষের জন্য। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকলেও যাদের হাতে ব্যবস্থা তারা চুপ!

২০১২ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনটি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আজ খুলনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ক্লিন’র প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আইলার পর সাত বছর পার হয়ে গেলেও উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংস্কার না করায় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে কোনো ভাবেই উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা রক্ষা করা যাবে না। তিনি বলেন, ২০১২ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে বেড়িবাঁধের ক্ষতি করার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও আইনটি কার্যকর না হওয়ায় যত্রতত্র বেড়িবাঁধ কেটে বা ফুটো করে নোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও দাপ্তরিক আদেশ জারি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকর করা,আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ ও ভূমিহীন পরিবারগুলোকে খাসজমি বিতরণ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসন করা, উপকূলীয় বেড়িবাঁধগুলো পরিবেশসম্মত উপায়ে আরো শক্তিশালী করা, কৃষিজমিতে নোনাপানির চিংড়িঘের বন্ধ করা ও সমন্বিত উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা নীতি (আইসিজেডএমপি) অনুসরণ বাধ্যতামলূক করাসহ ছয় দফা দাবিনামা উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্লিন’র চেয়ারপার্সন সাজ্জাদুর রহিমপান্থ, এ্যাওসেড’র নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফিন, পরিবর্তন-খুলনা’র নির্বাহী পরিচালক নাজমুল আযম ডেভিড, বলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারীমাহফুজুর রহমান মুকুল, বিপ্লবীওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সংগঠক মনিরুল হক বাচ্চু, ক্লিন’র সুবর্ণা ইসলাম দিশা, নাসিম রহমান কিরণ প্রমূখ।

৭ বছরেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি উপকূলের মানুষ

Banglapress.com.bd
বুধবার, ২৫ মে ২০১৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ণ
----------------------------------
A village in Dacope after cyclone Aila
সৈয়দা লায়লা আক্তার, খুলনা: আজ সেই ২৫ মে। উপকূলে আইলার আঘাতের ৭ বছর পূর্তি। ভয়ংকর আইলার দানবীয় আঘাতের ক্ষত চিহ্ন এখনও মুছেনি। এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি উপকূলের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ।

২০০৯ সালের ২৫ মে এ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উপকূলে। এতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় সবকিছু। আজ আইলা’র সপ্তম বর্ষপূর্তি। কিন্তুএখন পর্যন্ত আইলাবিদ্ধস্ত উপকূলবাসীর দিন-রাত কাটছে সেই বেড়িবাঁধের ওপর। এখনও নিশ্চিত করা যায়নি তাদের মাথাগোজার সামান্য ঠাঁই টুকুও।

কয়রার উত্তর বেদকাশী, মহারাজপুর এবং দাকোপের কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ এখনও বেড়িবাঁধের উপরে বাস করছেন। কারণ আইলার সময় তাদের ঘরবাড়ি-জমিজমা সব বিলীন হয়। নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় তারা সরকারের গৃহনির্মাণ তহবিলের সহায়তাও পাননি। এমনকি তাদেরকে কোনো খাস জমিও বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আইলার পরে জরুরীভিত্তিতে যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিলো সেগুলোও মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়নি। ইতোমধ্যে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। ফলে উপকূলবাসী নতুন আতংকে রয়েছেন।

২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে। উপকূলের ১১টি জেলায় প্রায় ৬ লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়, ৮ হাজার ৮শ’ কিলোমিটার রাস্তাঘাট ভেঙে যায়। খুলনা ও সাতক্ষীরার ৭১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় দেড় লাখ একর জমি নোনা পানিতে তলিয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানার পর ইতোমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে লায়লা, গিরি, হুদহুদ, নিলোফার, নার্গিস ইত্যাদি নামের ১৭টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। মহাসেন ও কোমেন ছাড়া এ অঞ্চলে কোন ঝড় আঘাত হানেনি। ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন মধ্য উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানলে ১২ জন, এবং ২০১৫ সালে ঘূর্ণিঝড় কোমেন-এর আঘাতে ৪ জনের মৃত্যু হয়।

Pratapsarani Primary School, High School and Community Clinic was grabbed by the new current made by cyclone Aila
সর্বশেষ আইলার ৭ বছর পর গত ২১ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু দুর্বল হয়ে মধ্য ও পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। এতে ঝরে যায় ২৪টি প্রাণ। ক্ষতিগ্রস্থ হয় প্রায় ২ লাখ মানুষ। এবারও অন্তত ৮শ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে, লোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে ১ লাখ একর ফসলি জমি। এ ঘূর্ণিঝড় খুলনা-সাতক্ষীরা-বাগেরহাটে আঘাত না হানলেও কমপক্ষে ৬টি স্থানে বেড়িবাঁধে ফাঁটল ধরেছে। এছাড়া খুলনার ৪ নম্বর কয়রা, মহারাজপুর ও কালাবগীতে জলোচ্ছ্বাসের পানি বেড়িবাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়।

শ্যামনগরের গাবুরা ও পদ্মপুকুর, আশাশুনির প্রতাপনগরের মানুষ। তাদের রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ হয়েছে। নতুন ঘর তৈরি হয়েছে। কিন্তু এলাকায় কৃষি নেই, চিংড়ি চাষেও মন্দা। কর্মসংস্থান না থাকায় দক্ষিণের এই মানুষ কাজের সন্ধানে এখন ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন ভিন্ন জেলায়।

গাবুরা ইউনিয়নে গেলে ৯নং সোরা গ্রামের কৃষিজীবী হাসান মোল্লা, ডুুমুরিয়া গ্রামের রেজাউল করিম ও নেবুবুনিয়া গ্রামের রাবেয়া খাতুন জানান, টানা দুই বছর পর তারা সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ঘর বাড়ি পেয়েছেন। কিন্তু এলাকায় কাজ না থাকা আর বারবার দুর্যোগের মুখে বসতি টিকছে না তাদের। কাজের খোঁজে বেরিয়ে যাচ্ছেন দুর্গত মানুষ। তারা জানান, গাবুরা ইউনিয়নের ১৮টি গ্রামে কোনো কৃষি জমি নেই বললেই চলে। আছে শুধু নোনা পাানির চিংড়ি ঘের। এ সব ঘেরে কাজ হয় বছরে পাঁচ মাস। বাকি সময় তাদের থাকতে হয় বেকার। কাজের অভাবে তারা নদীতে পোনা ধরতেন। তাও বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। আর জলদস্যু ও বাঘের ভয়ে সুন্দরবনে যেতে পারছেন না তারা। তারা আরো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই এখনো বাড়ি বানাতে পারেনি।

জোয়ারের তাণ্ডবে প্রতি বছর নতুন নতুন জায়গায় নদীর বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। আইলায় ভেঙ্গে জমিতে বালি ভরাট হয়ে গেছে। মাছও হয় না। খাবার পানি , চিকিৎসার সুযোগও নেই। সাইক্লোন সেন্টার ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা যথেষ্ট কম। চার কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হয়। এছাড়া বৃষ্টির পানি ধরে রেখে সারা বছর পান করতে হয়। পাত্রের অভাবে বৃষ্টির পানি সঞ্চয় করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। পুকুরের মিষ্টি পানিই দু’টি ইউনিয়নের ৭৬ হাজার মানুষের খাওয়ার পানির প্রধান উৎস। অসুস্থ্য হলে এক কিলোমিটার নদীর খেয়াঘাট পার করে ৩০ কিলোমিটার দুরে শ্যামনগরে বা ৮০ কিলোমিটার দূরে সাতক্ষীরা শহরে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু নদী খাল এলাকা হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ।

পাউবোর আমাদীর উপ-বিভাগীয় শাখার সা্েবক কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মতিন বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, ঝুকিপূর্ণ কিছু বাঁধে মাটি দেয়ার কাজ চলছে। তাছাড়া ভাঙন কবলিত বাঁধে ডাম্পিং ব্লক ফেলা হয়েছে। এছাড়া ভয়াবহ ভাঙনের কবলে থাকা বাঁধগুলো মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বদিউজ্জামান বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় উপকূলবাসীদের আশ্রয়ের জন্য সরকারের তত্ত্বাবধায়নে ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, উপকূলবর্তী কয়রা উপজেলাবাসীর জন্য ২ শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্র জরুরী প্রয়োজন। তিনি বলেন, আইলা বিধ্বস্ত কয়রা এলাকার মানুষের পুর্নবাসনে সরকারিভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। কয়রাকে আইলার পূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে সব রকমের সাহায্য সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।

কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজ উদ্দীন বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কয়রাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যহত রাখা হয়েছে।

উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) এর প্রধান সির্বাহী হাসান মেহেদী বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, ৭ বছর কেটে গেলেও এখনও কয়রার উল্টর কেবদকাশি ও মহারাজপুর এবং দাকোপের কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ বেড়িবাঁধের ওপর বসবাস করছেন। কেননা আইলার সময় তাদের ঘর-বাড়ি, জমি-জমা সব বিলীন হয়ে গেছে। নিজস্ব কোন জমি না থাকার কারণে তারা সরকারের গৃহনির্মাণ তহবিলের সহায়তা পাননি। এমনকি আজ পর্যন্ত তাদের কোন খাস জমিসতেও বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আইলার পর জরুরীভিত্তিতে যে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, সেগুলোও মানসম্মত উপায়ে তৈরী করা হয়নি। ফলে জোয়ারের চাপ বা ভারী বর্ষণে বাঁধগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২১ মে খুলনায় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাত না পড়লেও সামান্য চাপেই ৬টি স্থানে বাধে ফাটল দেখা দেয়। তাই পরিবেশ সম্মত উপায়ে প্রতিরোধক্ষম বেড়িবাধ নির্মাণ ছাড়া সামনে আর কোন বিকল্প নেই।

কয়রার পরিবেশবিদ আঃ আজিজ বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, পৃথিবীর বৈশ্বায়িক উষ্ণায়নের ফলে ঘটছে জলবায়ুর পরিবর্তন। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দূর্যোগ ঝুকিপূর্ণ দেশ। আর দেশের মধ্যে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ রয়েছে দক্ষিণ উপকূলীয় বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী সুন্দরবন কোলঘেষা খুলনার কয়রা।

Nalian Ferry Ghat had been vanished several times after cyclone Aila
উপেজলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার রায় বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, দূর্যোগ মোকাবেলায় সার্বিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে প্লাবিত হওয়ার আতংক রয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৩ লাখ মানুষ। যে জন্য দূর্যোগে হাইরেক্স জোন হিসেবে কয়রা এলাকায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

কয়রা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ শেখ আব্দুর রশিদ বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, কয়রাবাসী প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় অসহায় হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা গোলখালী, জোড়শিং, আংটিহারা, ৪নং কয়রা, গোবরা, গাটাখালী, হরিণখোলা, কাটকাটা, নয়ানী, তেতুলতলার চর, পাথরখালী, হরিহরপুর, ঘড়িলাল ও হড্ডা এলাকার মানুষ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মানুষ দূর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয় গ্রহণ করে থাকেন। ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর ধারণ ক্ষমতা অত্যান্ত কম। তিনি সরকারি প্রাথমিক ও মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি করে আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন।

কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্রকৌশলী নিরাপদ পাল বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আমাদী ইউনিয়ন ছাড়া বাকী ৬টি ইউনিয়নের কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীরতীরবর্তী গ্রামগুলো ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, কয়রা, মহারাজপুর, মহেশ্বরীপুর, বাগালী ইউনিয়নে যে সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে তা যথেষ্ট। কিন্তু দক্ষিণ ও উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে আরো সাইক্লোন সেন্টারের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

দাকোপের গুনারী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ মীর বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, আইলায় তার ঘর-বাড়ি ফসলি জমি সবকিছুই শিবসা নদীতে বিলিন হয়েছে। এখন পাশ্ববর্তী বাঁধের উপর পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। দীর্ঘ ৭ বছর ফসলি জমিতে আমন ধান উৎপাদন করতে পারছি না। ফলে সংসারে অভাব অনটন লেগেই আছে।

সুতারখালী ইফপির সাবেক চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন বলেন, আইলার জলোচ্ছাসে বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৭ হাজার বিঘা জমি নলিয়ান নদীগর্ভে বিলিন হয়। আইলার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না পারা মানুষ নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জমিতে বালির চর পড়ে ভরাট হওয়ায় কৃষকরা জমিতে ফসল ফলাতে পারছে না।

সুতারখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, ৭ বছরেও অনেক পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এলাকার অনেক পরিবার এখনো বেড়িবাঁধের উপর মানবেতর জীবনজাপন করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ও নদী ভাঙ্গনের কারণে জমির পরিমান কমতে থাকে। আইলার আগে ১৯ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হত। আইলায় প্রায় ২শ হেক্টর জমি নদী গর্ভে চলে যায়।

শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের শওকত আলী ও গৃহবধু নূরজাহান বেগম জানান, বেশিরভাগ এলাকা লবণাক্ত। এ এলাকা এক ফসলী। ফলে বছর জুড়ে কৃষি কাজের সুযোগ না থাকায় তারা গ্রাম ছেড়ে কাজের সন্ধানে চলে যান বাইরে। আগে তারা বনে যেতেন। এখন ডাকাতদের উৎপাত আর বাঘের ভয়ে বনে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া আগে নদীতে বাগদার রেনু ধরে সংসার চালানো যেতো। এখন সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও পেটের জ্বালায় কোষ্টগার্ড ও বনভিাগের চোখ এড়িয়ে নদীতে নামতে হয় বাগদার রেণু ধরতে। এছাড়া এলাকার অনেকই ঢাকা, আমিনবাজার, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন ইটভাটায় ৬ মাস করে কাজ করে থাকেন। কেই কেই শহরে রিক্সা চালায়। বাকি সময়ে তারা এলাকায় ফিরে এসে দিন মজুর খেটে কোন প্রকারে সংসার চালায়।

প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহনিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান জানান, সুভদ্রকাটি, রুইয়ার বিলসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ আইলার পর থেকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। তাছাড়া ২০১২ সালে জলবায়ু ট্রাষ্টের আওতায় প্রতিটি চার লাখ টাকা ব্যয়ে আইলা দুর্গত মানুষের জন্য ৪০০টি গৃহনির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও জেলা পরিষদের অনিয়ম ও দূর্ণীতির ফলে উচ্চ আদালতে কয়েকটি রিট পিটিশন দাখিল হওয়ায় ওই কার্যক্রম এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া প্রতি বছর কয়েকবার নদীবাঁধ ভাঙনের ফলে নতুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে এলাকা ছাড়ছে মানুষ।

গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান আলি আযম টিটো জানান আইলা দুর্গত গাবুরা ও পদ্মপুকুরের মানুষের জীবনধারনের সব সুযোগ হারিয়ে গেছে। চিকিৎসা নেই। যথেষ্ট সংখ্যক সাইক্লোন শেল্টারও নেই। লেখাপড়ার সুযোগ কম। কর্মসংস্থানের সূযোগ নেই। শিশু চিকিৎসার সুবিধাও অনুপস্থিত। প্রতি বছর ভাঙছে নদীর বাঁধ। ফলে এলাকা ছাড়ছে সাধারণ মানুষ। এসব কারণে জনবসতি স্থায়ী হচ্ছে না গাবুরা ও পদ্মপুকুরে। গো-খাদ্যের অভাব এবং মাটি ও পানি লবণাক্ত হওয়ায় গবাদি পশু পালনও কঠিন এ এলাকায়। গাবুরা ইউনিয়নে বর্তমানে ৬ হাজার ৮০০ পরিবারে জনসংখ্যা ৪৩ হাজার। ২০০৯ সালে গাবুরায় যে জনসংখ্যা ছিল বর্তমানে তা অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীর আর্থ সামজিক উন্নয়নে সরকারকে বড় ধরণের প্রকল্প হাতে নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মঞ্জুর আলম বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা যথেষ্ট মজবুত নয়। নতুন করে ভাঙন প্রতিরোধে চাই নতুনপ্রযুক্তি। অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে বাঁধ সংস্কারে সম্পৃক্ত করতে হবে। সুপেয় পানি ও কর্মসংস্থানের কিছু ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনবল সঙ্কটের কারণে স্বাস্থ্যসেবার জন্য বাইরে থেকে লোক এনে কাজ করাতে হয়। কর্মসংস্থানের জন্য কাঁকড়া মোটা তাজাকরণসহ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ এর এই দিনে মাত্র ৩০ মিনিটের তান্ডব নিশ্চিহ্ণ করে দিয়েছিল শ্যামনগরের দুটি ইউনিয়ন নদীবেষ্টিত গাবুরা ও পদ্মপুকুর। এছাড়াও বিধ্বস্ত হয় আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন। ৩৬টি গ্রামের ৭৩টি জীবন মুহুর্তেই কেড়ে নিয়েছিল আইলা। নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ায় গৃহহীন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল রাস্তার ধারে ও উঁচু স্থানে।

Link: http://banglapress.com.bd/news/khulna/23209

এখনো বেড়িবাঁধে বসবাস

www.risingbd.com
25 May 2016   01:40:30 PM
----------------------------------
মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, খুলনা : দক্ষিণাঞ্চলবাসীর কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে আছে ভয়াল সাইক্লোন আইলা। দীর্ঘ সাত বছর আগে ২৫ মে আইলার আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় সবকিছু। এখন পর্যন্ত আইলাবিধ্বস্ত উপকূলবাসীর দিন-রাত কাটছে সেই বেড়িবাঁধের ওপর। এখনও নিশ্চিত করা যায়নি তাদের মাথাগোঁজার সামান্য ঠাঁই টুকুও।

এখনও খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী, মহারাজপুর এবং দাকোপ উপজেলার কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ বেড়িবাঁধের উপরে বাস করছেন। অন্যদিকে আইলার পরে জরুরি ভিত্তিতে যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিলো সেগুলোও মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়নি। ইতিমধ্যে বর্ষা মৌসুম এসে পড়েছে। ফলে উপকূলবাসী নতুন আতঙ্কে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, ২০০৯ সালের আইলার আঘাতে এখানে ১৯৩ জনের মৃত্যু হয়, ৭ হাজার মানুষ আহত হন, সাড়ে ৬ হাজার গরু-বাছুর ও প্রায় ২ লাখ হাঁসমুরগি মারা যায়। উপকূলের ১১টি জেলায় প্রায় ৬ লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়, ৮ হাজার ৮শ’ কিলোমিটার রাস্তাঘাট ভেঙে যায়। খুলনা ও সাতক্ষীরা এই দুই জেলাতেই ৭১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় দেড় লাখ একর জমি নোনাপানিতে তলিয়ে যায়। ফলে এ দুটি জেলার প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে এবং প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ অস্থায়ীভাবে বাস্তচ্যুত হয়ে পড়েন।

ঘুর্ণিঝড় আইলার প্রভাবে সেদিন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে নদীতে জোয়ারের পানি বিদ্যুৎ বেগে বৃদ্ধি পেয়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে হু হু করে লোনা পানি  প্রবেশ করে। মুহুর্তের মধ্যে মানুষের ঘরবাড়ি, চিংড়ি ঘের, ক্ষেত খামার, রাস্তাঘাট সবই পানিতে একাকার হয়ে যায়। হাজার হাজার নারী, পুরুষ, শিশু, গবাদিপশু সাইক্লোন শেল্টারে গিয়ে আশ্রয় নেয়। শত শত পরিবার ঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে বেড়িবাঁধের ওপর আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। আইলার জলোচ্ছাসে কয়রায় ৯ ব্যক্তি প্রাণ হারায়। ২৪টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। কয়রায় হারেজখালি, পদ্মপুকুর, মঠবাড়ি, পাথরখালি, আশাশুনির চাকলা, রুইয়ারবিল, দাকোপের গোলবুনি, সুতারখালি, গুনারি, শ্যামনগরের গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে দু’ বছর লোনা পানিতে তলিয়ে থাকে খুলনা-সাতক্ষীরা উপকূলের বিস্তীর্ন জনপদ।

মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত মঠবাড়ি ক্লোজার, হারেজখালি, পদ্মপুকুর, পাথরখালি, গোলবুনি ক্লোজার তিন বছর পর ২০১২ সালে সেনাবাহিনীর ততা¡বধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড মেরামত করতে সক্ষম হয়। আজো কয়রা এলাকার মানুষ আইলার ধকল পুরোপুরি সামলে উঠতে পারেনি। পাউবোর বাঁধ প্রতিনিয়তই ভাঙছে। ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারাচ্ছে মানুষ।

পাউবোর বেড়িবাঁধ মেরামত প্রসঙ্গে খুলনাঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ বজলুর রশিদ বলেন, ষাটের দশকে নির্মিত উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নিচু হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে পাউবো বাঁধ মেরামত করতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বেড়িবাঁধের কিছুটা অংশে ড্যাম্পিং করে ব্লক বসানো হয়েছে। নদী ভাঙন ঠেকাতে জাইকার অর্থায়নে আগামী বছর থেকে বেড়িবাঁধে ব্লক বসানো কার্যক্রম শুরু হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান বলেন, সাত বছর আগের আইলার ক্ষতি ইতিমধ্যে মানুষ কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বেশি বেশি বরাদ্দ দেওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। নদীভাঙন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে, আইলার সপ্তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দিনব্যাপী খুলনা প্রেস ক্লাব চত্বরে চলছে আইলার ভয়াল দৃশ্য সম্বলিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী। বেসরকারি সংগঠন গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) ও এর সদস্য সংগঠনের পক্ষ থেকে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ক্লিন’র প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, ‘দুর্গত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি আইন হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গঠন ছাড়া আইনটি দীর্ঘ ৪ বছরেও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তিনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও সম্পদ রক্ষার জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও দাপ্তরিক আদেশ জারি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনটি কার্যকর করার দাবি জানান হাসান মেহেদী ।

এ ছাড়া আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি হারানো পরিবারগুলোকে খাসজমি বিতরণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকর করার পূর্ব পর্যন্ত বেড়িবাঁধ কাটা ও ছিদ্র করার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি থেকে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় বেড়িবাঁধগুলো শক্তিশালী করণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে যে কোনো কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘সমন্বিত উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরণ বাধ্যতামূলক করারও দাবি জানান তিনি।


তেলের ট্যাঙ্কার তীরেখোঁজ নেই মাস্টারের : শ্যালা নদীতে নৌযান বন্ধের নির্দেশ, আপাতত স্থানীয়রা সরাবে তেল

Subir Roy, Daily Ajker Patrika
12 December 2014
-------------------------------------
অবশেষে দু’দিন পর টেনে তীরে তোলো হয়েছে শ্যালা নদীতে ডুবে যাওয়া তেলের ট্যাঙ্কার সাউদার্ন স্টার সেভেন। মালিকপক্ষ মেসার্স হারুন অ্যান্ড কোম্পানির ভাড়া করা ৩টি উদ্ধারকারী নৌযানের সহায়তায় ট্যাঙ্কারটি টেনে প্রথমে নদীর চরে সরিয়ে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে মংলার জয়মনিরঘোল এলাকায় রাখা হয়। তবে নিখোঁজের দুই দিনেও খোঁজ মেলেনি সাউদার্ন স্টার সেভেন ট্যাঙ্কারের মাস্টার মোকলেসুর রহমানের। সুন্দরবন চ্যানেল বাদ দিয়ে বিকল্প চ্যানেলে নৌযান চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। এদিকে নদীতে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা জাহাজ কাণ্ডারি-১০ মংলায় পৌঁছেছে। আপাতত স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তেল উত্তোলন করা হবে। পরে বাকি তেল অপসারণে কাজ করবে কাণ্ডারি-১০।মংলার মেসার্স খানজাহান আলী স্যালভেজের ডুবুরি দল ডুবন্ত ট্যাঙ্কারের সঙ্গে লোহার তার পেঁচিয়ে গতকাল সকাল থেকে তীরে টেনে আনার কাজ শুরু করে। ট্যাঙ্কারটি টেনে তুলতে বিআইডব্লিউটিএর দু’টি উদ্ধারকারী জাহাজ আসার কথা থাকলেও সেগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনি।

বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান সামসুদোহা খন্দকার বলেন, পুনরায় আদেশ না দেয়া পর্যন্ত শ্যালা নদী দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নদীতে ভেসে থাকা তেল স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সরিয়ে নেয়া হবে। তিনি বলেন, এ চ্যানেল ছাড়াও বিকল্প অনেক চ্যানেল আছে, সেগুলোতে একটু বেশি ঘুরতে হলেও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ, বনবিভাগ, বিপিসির সঙ্গে যৌথ সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বিন্নি সংগঠনের নেতারা বলেছেন, বাংলাদেশের গর্বের ধন সুন্দরবন আজ হুমকির মুখে। এ অবস্থায় জরুরিভিত্তিতে তেল সরিয়ে নিতে উদোগ নেয়া দরকার। সরকার অবিলম্বে এ উদ্যোগ নিলে সুন্দরবন বিপন্নতার কবল থেকে রক্ষা পাবে। কিন্তু গত দুই দিনে সরকারের আন্তরিকতা চোখে পড়লেও জরুরি উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

গতকাল নাগরিক সমাজের জোট ‘সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল’ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল), ইক্যুইটি অ্যান্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ, বাংলাদেশ (ইক্যুইটিবিডি), ফরেস্ট পিপলস প্রোগ্রাম (এফপিপি) ও ম্যানগ্রোভ অ্যাকশন প্রোজেক্ট (ম্যাপ) যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্লিনের প্রধান সঞ্চালক হাসান মেহেদী।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সুন্দরবনে তেল-দূষণের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালায়। তেল-দূষণ থামানো না গেলে প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে পাখি, কচ্ছপ, ছোট মাছ ও অমেরুদণ্ডীপ্রাণী মারা যেতে পারে বলে ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়। এ ছাড়া প্রতিবেদনে তেল-দূষণ রোধ করার জন্য বন বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ক্রয়, স্থানীয় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে বাঁশ, কাঠের গুঁড়ি, কাঁচাপাট, খড়কুটো, বস্তা ও চট ব্যবহার করে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশও করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনের পর এক যুগ পার হয়ে গেলেও কোনো প্রস্তুতি নেয়া হয়নি।

বক্তারা বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, কিডনি ও যকৃত অকেজো হয়ে যাওয়া, স্নায়ূর স্থায়ী ক্ষতিসাধন, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া এবং রক্তের তারল্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিপন্ন প্রাণীর অভয়াশ্রমকে নিরাপদ রাখার জন্য কোনো ধরনের রাসায়নিক পাউডার ব্যবহারের প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা বলেন, কোনো রাসায়নিক দ্রব্যের মাধ্যমে তেল অপসারণ করলে কিংবা বনের ভেতরে ঢুকে তেল দূরীভূত করার চেষ্টা করলে তা হবে আত্মঘাতের শামিল। তেল দূরীভূত করার জন্য আগুন ধরালে তা সুন্দরবনে আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন। তেলভুক ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর পদ্ধতিকে কার্যকর হলেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সেটি খরচবহুল হবে বলে বক্তারা অভিমত দেন। বক্তারা যত দ্রুত সম্ভব কয়েকশ তরুণ স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করে দেশি উপকরণ দিয়ে তেল সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান। বক্তারা জানান, ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌ-রুট বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এরপর ২০১২ সালের ২১ আগস্ট পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে একই দাবি জানায়। কিন্তু নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এ নির্দেশ ও অনুরোধের কোনো তোয়াক্কা করেনি।

বক্তারা অবিলম্বে সুন্দরবনে পরিবেশগত দুর্যোগ ঘোষণা, জরুরিভিত্তিতে সুন্দরবনের নদী ও খাল থেকে তেল অপসারণের জন্য সম্মিলিত সামরিক ও বেসামরিক বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌ-চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, তেল অপসারণের কাজ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সরাসরি তদারক করা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ সংগ্রহে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দলের আহ্বায়ক গৌরাঙ্গ নন্দী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) খুলনা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার, জন উদ্যোগের খুলনা সমন্বয়কারী মহেন্দ্রনাথ সেন, হিউম্যানিটিওয়াচের নির্বাহী সদস্য পলাশ দাশ।

কয়রা ও দাকোপের বেড়িবাঁধে সাড়ে ৩ হাজার মানুষের বসবাস!

Daily Probaho, Khulna
 মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, 26 May 2016
-----------------------------------
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে ভয়াল সাইক্লোন আইলা। ২০০৯ সালের ২৫ মে এ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। এতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সবকিছু। আজ আইলা’র সপ্তম বর্ষপূর্তি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আইলা বিধ্বস্ত উপকূলবাসীর দিন-রাত কাটছে সেই বেড়িবাঁধের ওপর। এখনও নিশ্চিত করা যায়নি তাদের মাথা গোঁজার সামান্য ঠাঁইটুকুও। কয়রার উত্তর বেদকাশী, মহারাজপুর এবং দাকোপের কামারখোলা ও সূতারখালী ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ এখনও বেড়িবাঁধের ওপরে বাস করছেন। কারণ আইলার সময় তাদের ঘরবাড়ি-জমিজমা সব বিলীন হয়। নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় তারা সরকারের গৃহনির্মাণ তহবিলের সহায়তাও পাননি। এমনকি তাদেরকে কোনো খাস জমিও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আইলার পরে জরুরি ভিত্তিতে যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিলো সেগুলোও মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়নি। ইতোমধ্যে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। ফলে উপকূলবাসী নতুন আতংকে রয়েছেন।

২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে। উপকূলের ১১টি জেলায় প্রায় ৬ লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়, ৮ হাজার ৮শ কিলোমিটার রাস্তাঘাট ভেঙে যায়। খুলনা ও সাতক্ষীরার ৭১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় দেড় লাখ একর জমি নোনা পানিতে তলিয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানার পর ইতোমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে লায়লা, গিরি, হুদহুদ, নিলোফার, নার্গিস ইত্যাদি নামের ১৭টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। মহাসেন ও কোমেন ছাড়া এ অঞ্চলে কোন ঝড় আঘাত হানেনি। ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন মধ্য উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানলে ১২ জন এবং ২০১৫ সালে ঘূর্ণিঝড় কোমেন-এর আঘাতে ৪ জনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ আইলার ৭ বছর পর গত ২১ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু দুর্বল হয়ে মধ্য ও পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। এতে ঝরে যায় ২৪টি প্রাণ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ২ লাখ মানুষ। এবারও অন্তত ৮শ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে, লোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে ১ লাখ একর ফসলি জমি। এ ঘূর্ণিঝড় খুলনা-সাতক্ষীরা-বাগেরহাটে আঘাত না হানলেও কমপক্ষে ৬টি স্থানে বেড়িবাঁধে ফাঁটল ধরেছে। এছাড়া খুলনার ৪ নম্বর কয়রা, মহারাজপুর ও কালাবগীতে জলোচ্ছ্বাসের পানি বেড়িবাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়।

এদিকে, আইলা’র সপ্তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক মানিক সাহা অভ্যর্থনা কক্ষে বেসরকারি সংগঠন গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) ও এর সদস্য সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে আইলা বিধ্বস্ত অধিবাসী এবং তাদের এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)’র প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুর্গত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি আইন হয়েছে। কিন্তু আইনটি দীর্ঘ ৪ বছরেও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন, জীবিকা ও সম্পদ রক্ষার জন্য সরকারের কাছে ৬টি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবির মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও দাপ্তরিক আদেশ জারি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনটি কার্যকরকরণ, আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ভূমি হারানো পরিবারগুলোকে খাসজমি বিতরণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকর করার পূর্ব পর্যন্ত বেড়িবাঁধ কাটা ও ছিদ্র করার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি থেকে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা রক্ষায় বেড়িবাঁধগুলো পরিবেশসম্মত ও শক্তিশালীকরণ, উপকূলীয় কৃষি ও জীবনযাত্রা রক্ষায় অপরিকল্পিত নোনাপানির চিংড়ি ঘের বন্ধকরণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে যে কোনো কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘সমন্বিত উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বেলার মাহফুজুর রহমান মুকুল, ক্লিন এর সভাপতি সাজ্জাদুর রহিম পান্থ, এওসেড এর শামীম আরেফিন, পরিবর্তনের প্রধান নাজমুল আজম ডেভিড, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জিল্লুর রহমান ও মনিরুল হক বাচ্চু উপস্থিত ছিলেন।

আইলার সাত বছর পরও নির্মাণ হয়নি টেকসই বেড়িবাঁধ

Daily Inqilab, Dhaka
26 May 2016
----------------
এ.টি.এম. রফিক, খুলনা থেকে : সর্বনাশা আইলা’র ৭ বছর পূর্তি আজ ২৫ মে। ২০০৯ সালের এই দিনে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। ওই মহা দুর্যোগের দীর্ঘ সাত বছর পার হয়ে গেলেও খুলনার দাকোপ ও কয়রার সাড়ে ৩ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ আজও কাটে নি। বেড়িবাঁধ ভেঙে পানির তোড়ে ঘর-বাড়ি-জমিজমা বিলীন হয়ে যাবার পর বাধ্য হয়ে এসব পরিবার বাস করছে বেড়িবাঁধের উপর। আবার সেই বেড়িবাঁধ কেটে ও ফুটো করে আবারও নোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে চিংড়ি চাষের জন্য। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকলেও আইনটি কার্যকর না হওয়ায় কিছুই করা যাচ্ছে না। আটকে আছে কয়েকটি বিধিমালা তৈরিতে। তাই এ আইনটি কার্যকর করার জন্য বিধিমালা তৈরির দাবি উঠলো গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) ও সহযোগী পাঁচটিসংগঠন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে।

গতকাল মঙ্গলবার উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), অ্যাওসেড, জেজেএস, রূপায়ন ও এসপিএস আইলার সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ক্লিন’র প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলা নামক ঘূর্ণিঝড়ে খুলনার অন্তত ৪৫টি ইউনিয়ন এবং চালনা ও পাইকগাছা পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আইলায় ৫৭জনের প্রাণহানী, আর ৫ লাখ ৪৬ হাজার মানুষ সম্পদ হারায়, ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৪৪ হাজার আংশিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৫৯৭ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে ৫ লাখ ২৫ হাজার মানুষের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর নিহত হন ১৮জন। সিডরের আঘাতে ৪৩ দশমিক ৩০ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সর্বশেষ গত ২১ মে রোয়ানু’র বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়ায় ১২০টি বাড়ি আংশিক এবং ৪০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারটি উপজেলার এক হাজার একশ’ পরিবারের ৪ হাজার ৫৫৫ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হচ্ছে কয়রার দক্ষিণ বেদকাশি, দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ও তিলডাঙ্গা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও উপকূলবাসীদের নিয়ে কাজ করা ক্লিন’র প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, আইলার পর সাত বছর পার হয়ে গেলেও বেড়ি বাঁধ সংস্কার না করায় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে কোনো ভাবেই উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা রক্ষা করা যাবে না। ২০১২ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে বেড়িবাঁধের ক্ষতি করার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও আইনটি কার্যকর না হওয়ায় যত্রতত্র বেড়িবাঁধ কেটে বা ফুটো করে নোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বিধিমালাও দাপ্তরিক আদেশজারি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকর করা, আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ ও ভূমিহীন পরিবারগুলোকে খাসজমি বিতরণ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসন করা, উপকূলীয় বেড়িবাঁধগুলো পরিবেশসম্মত উপায়ে আরো শক্তিশালী করা, কৃষিজমিতে নোনাপানির চিংড়ি ঘের বন্ধ করা ও সমন্বিত উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা নীতি (আইসিজেডএমপি) অনুসরণ বাধ্যতামলূক করাসহ ছয় দফা দাবিনামা উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সংগঠক মনিরুলহক বাচ্চু, জিল্লুর রহমান, ক্লিন’র চেয়ারপারসন সাজ্জাদুর রহিম পান্থ, অ্যাওসেড-এর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফিন, বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, পরিবর্তন খুলনা’র নির্বাহী পরিচালক নাজমুল আযম ডেভিড, ক্লিন’র সুবর্ণা ইসলাম দিশা ও নাসিম রহমান কিরণ প্রমুখ।

আইলা’র ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায়নি ৭ বছরেও

Daily Karotoa
২৫ মে, ২০১৬ ১১:৪৫:১৯
------------------------
আজ ২৫ মে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলার ৭ বছর পূর্তি। ২০০৯ সালের এই দিনে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দক্ষিণ জনপদের উপকূলীয় অঞ্চল। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় খুলনার কয়রা ও দাকোপসহ সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকা।

দেখতে দেখতে আইলার ৭ বছর পার হচ্ছে। কিন্তু এখনও ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। কয়রা ও দাকোপের সাড়ে ৩ হাজার পরিবার এখনও সরকারি তহবিলের সহায়তা না পেয়ে বাঁধের ওপর বসবাস করছে। অভিশপ্ত এই দিনটির কথা মনে হলে আজও ভয়ে শিউরে ওঠেন উপকূলবাসী। কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে আজও টিকে আছে এ অঞ্চলের অসহায় মানুষ। আইলার কারণে কয়রা ও দাকোপ উপজেলার অনেক এলাকা এখনও প্রায় ফসলশূন্য। বিকল্প কর্মসংস্থানের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের অভাব অনটন বেড়েই চলেছে।  শুধু ঘর-বাড়ি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা খাদ্য, সুপেয় পানি আর চিকিৎসা সেবাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত।

পাউবোর আমাদীর উপ-বিভাগীয় শাখার  সাবেক কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কিছু বাঁধে মাটি দেওয়ার কাজ চলছে। তাছাড়া ভাঙন কবলিত বাঁধে ডাম্পিং ব্লক ফেলা হয়েছে। এছাড়া,ভাঙনের কবলে থাকা বাঁধগুলো মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বদিউজ্জামান জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উপকূলবাসীর আশ্রয়ের জন্য সরকারের তত্ত্বাবধানে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, উপকূলবর্তী কয়রা উপজেলাবাসীর জন্য  ২ শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ জরুরি। আইলা বিধ্বস্ত কয়রা এলাকার মানুষের পুনর্বাসনে সরকারিভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। কয়রাকে আইলার পূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করা হবে বলে  জানান তিনি।

কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজ উদ্দীন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কয়রাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) -এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, ৭ বছর কেটে গেলেও এখনও কয়রার উত্তর বেদকাশি ও মহারাজপুর এবং দাকোপের কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ বেড়িবাঁধের ওপর বসবাস করছেন। আইলায় তাদের ঘর-বাড়ি, জমি-জমা সব বিলীন হয়ে গেছে নদীতে। নিজস্ব কোনও জমি না থাকায় তারা সরকারের গৃহনির্মাণ তহবিলের সহায়তা পাননি। এমনকি আজ পর্যন্ত তাদের কোনও খাস জমিও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আইলার পর জরুরিভিত্তিতে যেসব বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, সেগুলো মানসম্মত না হওয়ায় জোয়ারের চাপ বা ভারী বর্ষণে বাঁধগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত ২১ মে খুলনায় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাত না হানলেও সামান্য চাপেই ৬টি স্থানে বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।

কয়রার পরিবেশবিদ আ. আজিজ বলেন, পৃথিবীর বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। আর দেশের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে দক্ষিণ উপকূলীয় বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী সুন্দরবন কোলঘেষা কয়রা।

উপেজলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সার্বিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৩ লাখ মানুষ। যে জন্য দুর্যোগে হাইরিক্স জোন হিসেবে কয়রা এলাকায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

কয়রা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুর রশিদ জানান, কয়রাবাসী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অসহায় হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলো গোলখালী, জোড়শিং, আংটিহারা, ৪নং কয়রা, গোবরা, গাটাখালী, হরিণখোলা, কাটকাটা, নয়ানী, তেতুলতলার চর, পাথরখালী, হরিহরপুর, ঘড়িলাল ও হড্ডা।এসব এলাকার মানুষ দুর্যোগকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় গ্রহণ করে থাকেন। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর ধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত কম। তিনি সরকারি প্রাথমিক ও মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী অধিদফতরের প্রকৌশলী নিরাপদ পাল জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আমাদী ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ৬টি ইউনিয়নের কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, কয়রা, মহারাজপুর, মহেশ্বরীপুর, বাগালী ইউনিয়নে যে সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে তা যথেষ্ট। কিন্তু দক্ষিণ ও উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে আরও সাইক্লোন সেন্টারের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

দাকোপের গুনারী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ মীর জানান, আইলায় তার ঘর-বাড়ি ফসলি জমি সব কিছুই শিবসা নদীতে বিলিন হয়েছে। এখন পার্শ্ববর্তী বাঁধের ওপর পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। ৭ বছর ধরে ফসলি জমিতে আমন ধান উৎপাদন করতে পারছি না। ফলে সংসারে অভাব অনটন লেগেই আছে।

আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা
সুতারখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন বলেন, আইলার জলোচ্ছ্বাসে বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৭ হাজার বিঘা জমি নলিয়ান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। আইলার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না পারা মানুষ নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জমিতে বালির চর পড়ে ভরাট হওয়ায় কৃষকরা ফসল ফলাতে পারছে না।

সুতারখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বলেন, ৭ বছরেও অনেক পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এলাকার অনেক পরিবার এখনও বেড়িবাঁধের ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.মোসাদ্দেক হোসেন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ও নদী ভাঙনের কারণে জমির পরিমাণ কমছে। আইলার আগে ১৯ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হতো। আইলায় প্রায় ২শ’ হেক্টর জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ৩৮টি পোল্ডারের সবই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৬৫১ কিলোমিটার বেঁড়িবাধের মধ্যে ৬৮৪ কিলোমিটার বিধ্বস্ত হয়। ৬৩৯টি স্লুইস গেটের মধ্যে ১০৯টি অকেজ হয়ে যায়। তবে আইলার পর ৩৩টি পোল্ডারের ২৫০ কিলোমিটার এলাকা মেরামত করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি, উত্তর বেদকাশি, কয়রা সদর ও মহারাজপুর ইউনিয়নের পাউবোর বেড়িবাঁধের ওপর মানুষ এখনও সেই ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। মাথা গোজার ঠাঁই না পেয়ে কষ্টের মধ্যে বেড়িবাঁধ আকড়ে আছেন তারা। আইলার পর ভেঙে যাওয়া পবনা বাঁধ, হারেজখালি, পদ্মপুকুর, শিকারিবাড়ি, পাথরখালি মেরামত হয়েছে। কিন্তু কয়রার ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি ইউনিয়নের কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে পর্যাপ্ত মাটি নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় মাটি দেওয়ার উদ্যোগ না নেওয়ায় বাঁধগুলো ঝুঁকির মুখে রয়েছে। দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের আংটিহারা, খাসিটানা, জোড়শিং, মাটিয়াভাঙ্গা, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাতিরঘেরি, গাববুনিয়া, গাজিপাড়া, কাটকাটা, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৬নং কয়রা, ৪নং কয়রার পুরাতন লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকা, ঘাটাখালি, হরিণখোলা, মহারাজপুর ইউনিয়নের উত্তর মঠবাড়ি, দশালিয়া, লোকা, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি, নয়ানি, শেখেরটেক এলাকার বেড়িবাঁধগুলো অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ সকল বাঁধ সংস্কার করা হয়নি। ফলে এসব বাঁধ ভেঙে আবারো গোটা উপজেলা লোনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইলার জলোচ্ছ্বাসে খাবার পানির উৎস নষ্ট হয়ে যায়। গত ৭ বছরেও বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়ায় বিশুদ্ধ পানির জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী দারুণ কষ্টে রয়েছেন। তারা ১০/১২ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। পরিকল্পনা মাফিক গভীর নলকূপ স্থাপন ও পুকুর সংস্কার করে পিএসএফ স্থাপন করা যায়নি এখনও। আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আজও সংস্কার হয়নি। প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষকে দুর্যোগকালীন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র নেই। উপজেলার অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো এখনও পুরোপুরি সংস্কার সম্ভব হয়নি।

আইলা’র ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায়নি ৭ বছরেও
অন্যদিকে দাকোপে ক্ষতিগ্রস্তদের এখনও পুনর্বাসনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। কিছু কিছু এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে। বেশির ভাগ রাস্তার বেহাল দশা। জোয়ারের চাপে পাউবোর ৩১, ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডারের ৩৪টি স্থানে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো হচ্ছে-সুতারখালী ইউনিয়নের নলিয়ান বাজার, গুনারী, সুতারখালী ফরেস্ট অফিসের পশ্চিম কোনা, কালাবগী পন্ডিত চন্দ্র স্কুল, কালিবাড়ি লঞ্চঘাট,কামারখোলা ইউনিয়নের কালিনগর টাওয়ার এলাকা, কামারখোলা, জালিয়াখালী, ভিটেভাঙ্গা, জয়নগর, তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের কামিনিবাসিয়া পুলিশ ফাঁড়ি, মোজামনগর, আন্ধারমানিক, গড়খালী, বটবুনিয়া, বানিশান্তা ইউনিয়নের আমতলা পুলিশ ফাঁড়ি, বানিশান্তা বাজার, পতিতা পল্লী, পূর্ব ঢাংমারী বড় বাড়ি, ভোজন খালী, খেজুরিয়া, বাজুয়া ইউনিয়নের চুনকুড়ি খেয়াঘাট, কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের রামনগর হাটখোলা, বুড়ির ডাবুর, পানখালী ইউনিয়নের ফেরীঘাট, খোনা, মৌখালী, পানখালী, দাকোপ ইউনিয়নের দাকোপ লঞ্চঘাট, পোদ্দারগঞ্জ বাজার, দাকোপ খেয়াঘাট (কালিনগর আড়পার) চালনা পৌরসভার নলোপাড়া থেকে চালনা বাজার পুরান জামে মসজিদ পর্যন্ত, চালনা বাজার লঞ্চঘাট থেকে পাকা ঘাট পর্যন্ত।

প্রাকৃতিক সম্পদের মালিক জনগণ, সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর উদ্যোগ ঠেকাতে জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে

সুন্দরবন সমাচার
১৫ মার্চ ২০১৬
---------------
Meet the Press of Indian representatives in Sundarbans Long March
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণ মাত্রা অনেক ও বহুমুখী। এর ফলে সুন্দরবনের প্রতিবেশ হুমকির মুখে পড়তে পারে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ভারতের কিছু এলাকার জনসাধারণ ইতোমধ্যে তাদের জীবিকা হারিয়েছে, পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এ কারণেই জনগণের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা উচিৎ এবং যৌথ আন্দোলন গড়ে তোলা উচিৎ।

তবে দেশে শিল্পায়নের কোন বিকল্প নেই। দেশের অগ্রগতি ও গণমানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অবশ্যই বিভিন্ন শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে হবে। আর শিল্প এবং কৃষির আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজন জ্বালানী অর্থাৎ বিদ্যুৎ। সে ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবশ্যই গড়ে তুলতে হবে, তবে লক্ষ্য রাখতে হবে দুষণের মাত্রা যেন পরিবেশের সর্বনাশ করতে সক্ষম না হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

মনে রাখতে হবে বিদেশী এজেন্ট উন্নয়ন বিরোধীরাও তৎপর, যারা উন্নয়নের বিপরিতে পরিবেশ-প্রতিবেশ’র দরদী হতে চায় আবার (ব্যক্তিসার্থে) লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বিদেশী রাষ্ট্রকে সিসমিক সার্ভের অনুমতি দিতে প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়ে পরিবেশের সর্বনাশ ডেকে আনে। এরা স্বাধীনতার পর পর সমাজতন্ত্রের নামে দেশে সকল প্রকার বিনিয়োগ বন্ধের সিদ্ধান্ত দিয়েছিলো। ফলে সদ্যজাত বাংলাদেশ হয়ে পড়ে শিল্পোন্নত দেশের বাজার মাত্র। দেশ পিছিয়ে পড়ে বহুযুগ। আবার দেশের আকাশে দেখা দিয়েছে পুরোনো শকুণ!

আজ খুলনা প্রেস ক্লাবের শহীদ হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল, উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট, সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়ন, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ (সিইপিআর), ভারত বিজ্ঞান যাত্রা, দিল্লি সলিডারিটি গ্রুপ, মাচ্ছিমার অধিকার সংগঠন (ম্যাস) ও জাতীয় মৎস্যজীবী ফোরাম কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে “কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উপকূলীয় প্রতিবেশ” শীর্ষক আলোচনা সভায় ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এ কথা বলেন।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্য ও সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অশোক চৌধুরী, উপ-সম্পাদক রোমা মালিক, ভারত জন-বিজ্ঞান যাত্রার আহ্বায়ক সৌম্য দত্ত, কেরালার জাতীয় মৎস্যজীবী ফোরামের ম্যাগলিন পিটার, গুজরাটের মাচ্ছিমার অধিকার সংঘর্ষ সংগঠন (ম্যাস)’র ভারত প্যাটেল, উত্তর প্রদেশের উমেশ বাবু, উড়িষ্যার শীলা মহাপাত্র, কেরালার মাজু ভারগেসে, মধ্য প্রদেশের রাজেশ কুমার ও মহারাষ্ট্রের আয়েশা ডি’সুজা। আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)’র প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ম্যাস’র ভারত প্যাটেল বলেন, গুজরাটের কচ্ছ উপসাগরের তীরে প্রথমে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উত্তপ্ত পানির কারণে উপকূল মৎস্যশূন্য হয়ে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের জীবিকা হারিয়েছে। অপরদিকে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ২শ’ মানুষের। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা সরবরাহের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ বন্দর। বন্দরের জাহাজের শব্দ ও দুষণে নষ্ট হয়ে গেছে এলাকার পরিবেশ। বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আরো বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ৩০০ একর জায়গা নিয়ে শুরু করলেও এখন ১২০ কিলোমিটার ব্যাপী দুষণকারী কারখানা আর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। কেরালার মৎস্যজীবী ফোরামের ম্যাগলিন পিটার বলেন, আদানী ও আম্বানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে হাজার হাজার জেলে তাদের জীবিকা হারিয়েছে।

সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়নের অশোক চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিশেবে ভারতের জাতীয় তাপবিদ্যুৎ কোম্পানি (এনটিপিসি)’র দায়িত্ব হলো নিজ দেশের জনসাধারণকে বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদান করা। অন্য দেশে মুনাফার জন্য কোম্পানি তৈরি করার কোনো অধিকার এ সংস্থার নেই। ভারত জন-বিজ্ঞান যাত্রার সৌম্য দত্ত বলেন, ভারত-বাংলাদেশের একটাই সুন্দরবন। এর কোনো একটি অংশে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে অপর অংশও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভারতীয় কোম্পানি যদি সেই ক্ষতির জন্য দায়ী হয় তাহলে উদ্যোগ নিতে হবে যৌথভাবে। সেখানে ভারতীয় জনগণ নিজ কোম্পানিকে প্রতিরোধ করার জন্য কাজ করবেন, বাংলাদেশ কাজ করবে নিজ প্রতিবেশ রক্ষার জন্য। রোমা মালিক বলেন, সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করে মুষ্টিমেয় ধনী কোম্পানিগুলো মুনাফার পাহাড় গড়ছে। এর বিরুদ্ধে দক্ষিণ এশীয় জনসাধারণের সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। তাই জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনা সভায় আরো আলোচনা করেন, হিউম্যানিটিওয়াচ’র শরিফুল ইসলাম সেলিম, শিশুস্বর্গ খেলাঘর আসরের মাইনুল ইসলাম সাকিব, ক্লিন’র রেজাউল করিম জিতু, সুবর্ণা ইসলাম দিশা, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাকিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্ক বীজব্যাংক চালু করার দাবি

Daily Jaijaidin
June 1, 2015
--------------------
দক্ষিণ এশিয়ার দারিদ্র্য ও খাদ্যঝুঁঁকি দূর করতে সার্ক বীজব্যাংক চালু করা খুব জরুরি বলে দাবি জানিয়েছে বক্তারা।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই ভবনে দক্ষিণ এশীয় খাদ্য অধিকার সম্মেলনে খানি-বাংলাদেশ, কেন্দ্রীয় কৃষক মৈত্রী, এশীয় কৃষক সংগঠন (আফা), এশীয় খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (এএফএসএন), আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (আইএফএসএন), ইনসিডিন বাংলাদেশ ও অ্যাকশনএইড কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত বীজব্যাংক বিষয়ক কর্ম-অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অধিবেশনে ধারণাপত্র পাঠ করেন উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য কাজী রোজী, সার্ক অ্যাগ্রিকালচারাল সেন্টারের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ড. টায়ান রাজ গুরুং, ইতালির আলবার্টা গুয়েরা, ভারতের হর্ষ মান্দের এবং পাকিস্তানের ড. মোহাম্মদ মুসা। অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন আইএফএসএন-এর নির্বাহী সদস্য রতন সরকার।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সার্ক বীজব্যাংক চুক্তিতে স্থানীয় জাতের বীজের স্বীকৃতি দেয়া হলেও হাজার হাজার বছর ধরে যেসব কৃষক এই জাতগুলো উন্নয়ন, বিনিময় ও সম্প্রসারণ করছেন, তাদের কোনো স্বীকৃতি ও অধিকার দেয়া হয়নি। সার্ক বীজব্যাংক বোর্ডে মাত্র একজন কৃষক প্রতিনিধি রাখা হয়েছে, অথচ বীজ কোম্পানি প্রতিনিধি রাখা হয়েছে দুজন। অপরদিকে নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধিও বোর্ডে রাখা হয়নি। বক্তারা বীজব্যাংক বোর্ডে কমপক্ষে ৩ জন কৃষক প্রতিনিধি ও ১ জন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি রাখার দাবি জানান।

আইলার সাত বছর : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকরের দাবি

Daily Prothom Alo
০১:৪১, মে ২৫, ২০১৬
----------------------
সাত বছর পেরিয়ে গেলেও খুলনার দাকোপ ও কয়রা উপজেলার দুর্গত সাড়ে তিন হাজার মানুষের দুর্ভোগ আজও কাটেনি। তারা এখনো বেড়িবাঁধের ওপর বসবাস করছে। ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে বেড়িবাঁধ ভেঙে তাদের বসতঘর ও জমি বিলীন হয়ে যায়। এত দিনেও সেই বাঁধ সংস্কার করা হয়নি।

গতকাল মঙ্গলবার খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা পাঁচটি উন্নয়ন সংস্থা এই তথ্য জানায়। তারা বলেছে, এ অবস্থায় নতুন কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে কোনোভাবেই উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা যাবে না। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও সম্পদ রক্ষায় ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা’ আইনটি কার্যকর করা দরকার বলে তারা মত দিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় আইলার ৭ বছর উপলক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পড়ে শোনান ‘উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্ম জোট (ক্লিন)’-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

২০০৯ সালের ২৫ মে খুলনা উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আইলা। এতে ১৯৭ জন নিহত হয়, আহত হয় ৭ হাজার মানুষ। ঘূর্ণিঝড়ে খুলনা ও সাতক্ষীরার ৭১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে দেড় লাখ একর জমি প্লাবিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১২ সালের ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা’ আইনে বেড়িবাঁধের ক্ষতি করার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও আইনটি কার্যকর হয়নি। এ কারণে এখনো বেড়িবাঁধ কেটে বা ছিদ্র করে নোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে। দুর্বল হয়ে পড়ছে বাঁধ।
অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও দাপ্তরিক আদেশ জারি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকর করা, আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ভূমিহীন পরিবারগুলোকে খাস জমি বিতরণ ও পুনর্বাসন করা, বেড়িবাঁধগুলো পরিবেশসম্মত উপায়ে আরও শক্তিশালী করা এবং কৃষিজমিতে নোনা পানির চিংড়ি ঘের বন্ধ করা ও সমন্বিত উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা নীতি (আইসিজেডএমপি) অনুসরণ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয় এ সংবাদ সম্মেলনে।

সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর উদ্যোগ ঠেকাতে দুই দেশের জনগণের ঐক্য দরকার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিক জনগণ, তা বাঁচাতে জনতারই এগিয়ে আসতে হবে

Voice of Satkhira
মার্চ ১৫, ২০১৬
---------------------
খুলনা, ১৫ মার্চ ২০১৬ : কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ। এর ফলে সুন্দরবনের সঙ্কটাপন্ন প্রতিবেশ আরো হুমকির মুখে পড়বে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ভারতের কিছু এলাকার জনসাধারণ ইতোমধ্যে তাদের জীবিকা হারিয়েছে, পরিবেশ নষ্ট হয়েছে এবং এ কারণে আদালত অনেকগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণেই জনগণের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা উচিৎ এবং যৌথ আন্দোলন গড়ে তোলা উচিৎ। আজ (১৫ মার্চ ২০১৬, মঙ্গলবার) খুলনা প্রেসক্লাবের শহীদ হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল, উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়ন, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ (সিইপিআর), ভারত বিজ্ঞান যাত্রা, দিল্লি সলিডারিটি গ্রুপ, মাচ্ছিমার অধিকার সংঘর্ষ সংগঠন (ম্যাস) ও জাতীয় মৎস্যজীবী ফোরাম কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে “কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উপকূলীয় প্রতিবেশ” শীর্ষক আলোচনা সভায় ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এ কথা বলেন।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দলের আহ্বায়ক গৌরাঙ্গ নন্দীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্য ও সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অশোক চৌধুরী, উপ-সম্পাদক রোমা মালিক, ভারত জন-বিজ্ঞান যাত্রার আহ্বায়ক সৌম্য দত্ত, কেরালার জাতীয় মৎস্যজীবী ফোরামের ম্যাগলিন পিটার, গুজরাটের মাচ্ছিমার অধিকার সংঘর্ষ সংগঠন (ম্যাস)-এর ভারত প্যাটেল, উত্তর প্রদেশের উমেশ বাবু, উড়িষ্যার শীলা মহাপাত্র, কেরালার মাজু ভারগেসে, মধ্য প্রদেশের রাজেশ কুমার ও মহারাষ্ট্রের আয়েশা ডি’সুজা। আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ম্যাস-এর ভারত প্যাটেল বলেন, গুজরাটের কচ্ছ উপসাগরের তীরে প্রথমে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উত্তপ্ত পানির কারণে উপকূল মৎস্যশূন্য হয়ে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের জীবিকা হারিয়েছে। অপরদিকে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ২শ’ মানুষের। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা সরবরাহের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ বন্দর। বন্দরের জাহাজের শব্দ ও দুষণে নষ্ট হয়ে গেছে এলাকার পরিবেশ। বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আরো বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ৩০০ একর জায়গা নিয়ে শুরু করলেও এখন ১২০ কিলোমিটার ব্যাপী দুষণকারী কারখানা আর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। কেরালার মৎস্যজীবী ফোরামের ম্যাগলিন পিটার বলেন, আদানী ও আম্বানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে হাজার হাজার জেলে তাদের জীবিকা হারিয়েছে। অথচ তাদেরকে কয়েক লাখ কর্মদিনের চাকরির লোভ দেখানো হয়েছিলো। পরবর্তীতে দেখা গেল, ১০ হাজার মানুষের মাত্র ২ মাসের কর্মসংস্থান হয়েছে।

সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়নের অশোক চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিশেবে ভারতের জাতীয় তাপবিদ্যুৎ কোম্পানি (এনটিপিসি)’র দায়িত্ব হলো নিজ দেশের জনসাধারণকে বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদান করা। অন্য দেশে মুনাফার জন্য কোম্পানি তৈরি করার কোনো অধিকার এ সংস্থার নেই। ভারত জন-বিজ্ঞান যাত্রার সৌম্য দত্ত বলেন, ভারত-বাংলাদেশের একটাই সুন্দরবন। এর কোনো একটি অংশে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে অপর অংশও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভারতীয় কোম্পানি যদি সেই ক্ষতির জন্য দায়ী হয় তাহলে উদ্যোগ নিতে হবে যৌথভাবে। সেখানে ভারতীয় জনগণ নিজ কোম্পানিকে প্রতিরোধ করার জন্য কাজ করবেন, বাংলাদেশ কাজ করবে নিজ প্রতিবেশ রক্ষার জন্য। রোমা মালিক বলেন, সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করে মুষ্টিমেয় ধনী কোম্পানিগুলো মুনাফার পাহাড় গড়ছে। এর বিরুদ্ধে দক্ষিণ এশীয় জনসাধারণের সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। তাই জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনা সভায় আরো আলোচনা করেন, এনটিভি’র মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, বেলা’র মাহফুজুর রহমান মুকুল, মাছরাঙা টেলিভিশনের মোস্তফা জামাল পপলু, ওয়াটারকিপার্স-এর মানবেন্দ্র দেব, ছাত্র প্রতিনিধি কানাই মণ্ডল, দীপ্ত টেলিভিশনের ফারজানা ববি, দৈনিক পূর্বাঞ্চলের এইচএম আলাউদ্দীন, সাংবাদিক মাকসুদুর রহমান, এসএ টেলিভিশনের সুনীল দাস, গাজী শান্তনু কায়সার, একুশে টেলিভিশনের মহেন্দ্র নাথ সেন, হিউম্যানিটিওয়াচ-এর শরিফুল ইসলাম সেলিম, শিশুস্বর্গ খেলাঘর আসরের মাইনুল ইসলাম সাকিব, দৈনিক যুগান্তরের হেদায়েৎ হোসেন, বাংলানিউজ-এর মাহবুবুর রহমান মুন্না, দৈনিক তথ্যের নূর হাসান জনি, ক্লিন-এর রেজাউল করিম জিতু, সুবর্ণা ইসলাম দিশা প্রমূখ।

জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুরক্ষা দিতে হবে : জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি বিষয়ক আন্তরাষ্ট্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ

Daily Patradoot
April 3, 2015
------------------
বৃহস্পতিবার নাগরিক সমাজের ১৪টি সংগঠন ও নেটওয়ার্কের উদ্যোগে খুলনায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা প্রণয়ন’-এর দাবি জানানো হয়। ন্যানসেন ইনিশিয়েটিভের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ৩-৫ এপ্রিল ২০১৫ অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু ও দুর্যোগতাড়িত বাস্তুচ্যুতি বিষয়ক আন্তরাষ্ট্রীয় সম্মেলন উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সার্ক ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৪টি দেশের সরকারি প্রতিনিধি ছাড়াও জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের শতাধিক প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। উল্লেখ্য, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের উদ্যোগে ন্যানসেন ইনিশিয়েটিভ নামক আন্তর্জাতিক এ সংগঠনটি পরিচালিত হয়।

অক্সফ্যাম-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন আয়োজনকারী ১৪টি সংগঠন হলো বাপা (বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন), বিপনেট-সিসিবিডি (বাংলাদেশ ইন্ডিজেনাস পিপলস্ নেটওয়ার্ক ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড বায়োডাইভার্সিটি, (বিসিজেএফ) বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম), সিসিডিএফ (ক্লাইমেট চেঞ্জ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম), সিএসআরএল (গ্রামীণ জীবনযাত্রর স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান), ক্লিন (উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট), সিডিপি (কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশীপ), কাউন্টার ফটো, ইক্যুইটিবিডি (ইক্যুইটি অ্যান্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্র“প- বাংলাদেশ), এফইজেবি (ফোরাম ফর এনভায়রনমেন্টাল জার্নালিস্ট ইন বাংলাদেশ), লিডার্স, পিআরডিআই (পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ), রূপান্তর ও উদয়ন-বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা ও লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী, স্বাগত বক্তব্য রাখেন রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিএসআরএল-এর সাধারণ সম্পাদক শরমিন্দ নিলোর্মী, সিজিসি’র ড. আহসান উদ্দীন আহমেদ, ইক্যুইটিবিডি’র প্রধান সঞ্চালক রেজাউল করিম চৌধুরী ও অক্সফ্যাম-এর অ্যাডভোকেসি কোঅর্ডিনেটর তানভীর মাহমুদ। সংবাদ সম্মেলন শেষে কাউন্টার ফটো’র দীন মোহাম্মদ শিবলীর জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও ক্যাম্পেইন পোস্টকার্ড উম্মোচন করেন খুলনা নাগরিক ফোরামের চেয়ারপারসন শেখ আব্দুল কাইয়ুম।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জলবায়ু বাস্তুচ্যুতির উপর আলোকপাত করে শরমিন্দ নিলোর্মী বলেন, আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ অগত্যা বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। তিনি ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের অব্যাহত দাবির কথা তুলে ধরে বলেন, এ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একান্ত জরুরি। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আহসান উদ্দীন আহমেদ বলেন, জলবায়ু দুর্যোগের জন্য দায়ী উন্নত দেশগুলোকেই জলবায়ুতাড়িত বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনে দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা তৈরির উপর গুরুত্বারোপ করেন।

আন্তরাষ্ট্রীয় সম্মেলনটি খুলনায় আয়োজন করায় সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এ অঞ্চল সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে, বিশেষ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে স্পষ্ট করেই বলেছেন, ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা করা বাংলাদেশের জন্য প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এখনও জাতিসংঘে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করে নি। অক্সফ্যামের অ্যাডভোকেসি কোঅর্ডিনেটর তানভীর মাহমুদ বলেন, জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি বিষয়ে বাংলাদেশের দাবি তুলে ধরার জন্য খুলনায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যানসেন সম্মেলন একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিৎ। লিখিত বক্তব্যে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে দাবিসমূহ তুলে ধরেন ক্লিন-এর হাসান মেহেদী।

আইলা দুর্গতদের বাঁচাতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকরের দাবি

www.bahumatrik.com
২৪ মে ২০১৬ মঙ্গলবার, ১১:০৯  পিএম
------------------------------------
Hasan Mehedi read out the written speech in the press conference
 খুলনা : প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আইলা’র ৭ বছরপূর্তিতে উপকূলের দূর্গতদের রক্ষায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকরের দাবি জানিয়েছে গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) ও সহযোগী পাঁচটি সংগঠন।

মঙ্গলবার খুলনায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনগুলোর নেতারা। উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), এ্যাওসেড, জেজেএস, রূপায়ন ও এসপিএস এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সাত বছর পার হয়ে গেলেও দাকোপ ও কয়রার সাড়ে ৩ হাজার দুর্গত জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ আজও কাটেনি। বেড়িবাঁধ ভেঙে পানির তোড়ে ঘরবাড়ি-জমিজমা বিলীন হয়ে যাবার পর বাধ্য হয়ে এসব পরিবার বাস করছে বেড়িবাঁধের উপর। আবার সেই বেড়িবাঁধ কেটে ও ফুটো করে আবারও নোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে নোনাপানির চিংড়ি চাষের জন্য। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকলেও আইনটি কার্যকর না হওয়ায় কিছুই করা যাচ্ছে না। আটকে আছে কয়েকটি বিধিমালা তৈরিতে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

লিখিত বক্তব্যে হাসান মেহেদী বলেন, আইলার পর সাত বছর পার হয়ে গেলেও উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংস্কার না করায় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে কোনোভাবেই উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা রক্ষা করা যাবে না। ২০১২ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে বেড়িবাঁধের ক্ষতি করার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও আইনটি কার্যকর না হওয়ায় যত্রতত্র বেড়িবাঁধ কেটে বা ফুটো করে নোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে।

বক্তারা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও দাপ্তরিক আদেশ জারি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকর করা, আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ ও ভূমিহীন পরিবারগুলোকে খাসজমি বিতরণ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসন করা, উপকূলীয় বেড়িবাঁধগুলো পরিবেশসম্মত উপায়ে আরো শক্তিশালী করা, কৃষিজমিতে নোনাপানির চিংড়িঘের বন্ধ করা ও সমন্বিত উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা নীতি (আইসিজেডএমপি) অনুসরণ বাধ্যতামলূক করাসহ ছয় দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সংগঠক মনিরুল হক বাচ্চু, জিল্লুর রহমান, ক্লিন-এর চেয়ারপারসন সাজ্জাদুর রহিম পান্থ, এ্যাওসেড-এর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফিন, বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, পরিবর্তন-খুলনা’র নির্বাহী পরিচালক নাজমুল আযম ডেভিড, ক্লিন-এর সুবর্ণা ইসলাম দিশা, নাসিম রহমান কিরণ প্রমূখ।

Link: আইলা দুর্গতদের বাঁচাতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকরের দাবি

ভেড়ীবাঁধের ওপর সাড়ে ৩ হাজার মানুষের মানবেতর জীবনযাপন : খুলনায় আইলা’র সাত বছর পরের হালচিত্র

Daily Somoyer Khobor, Khulna
বুধবার, ২৫ মে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ
--------------------------------------
নিজস্ব প্রতিবেদক : উপকূলবর্তী জেলা খুলনায় আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে তিন হাজার মানুষ শিবসা, পশুর ও শাকবাড়িয়া নদীর তীরে ভেড়ীবাঁধের ওপর বসবাস করছে। তাদের এখনও মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়নি। নিজস্ব জমি না থাকায় গৃহ নির্মাণের তহবিলের সহায়তাও পায়নি। এমনকি তাদের জন্য খাস জমিরও ব্যবস্থা করা হয়নি। ভেড়ীবাঁধের ওপর বসবাসকারী এলাকাগুলো হচ্ছে কয়রার উত্তর বেদকাশি, মহারাজপুর ইউনিয়ন, দাকোপ উপজেলার কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়ন। আইলায় জেলায় ৫৭ জনের প্রাণহানী হয়। ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলা নামক ঘূর্ণিঝড় এ অঞ্চলে আঘাত হানে।

গতকাল উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), এ্যাওসেড, জেজেএস, রূপায়ন ও এসপিএস ‘আইলা’র সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আইলার পর জরুরী ভিত্তিতে নির্মিত ভেড়ীবাঁধগুলো মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়নি। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাত না হানলেও খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ৬টি স্থানে ভেড়ীবাঁধে ফাটল ধরেছে। খুলনার দক্ষিণ প্রান্তের উপজেলা কয়রার মহারাজপুর ও দাকোপের কালাবগিতে জলোচ্ছ্বাসে পানি ভেড়ীবাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের উদ্যোগ নেয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপকূলের ৫৭ লাখ জনগোষ্ঠীর ঝুঁকিপূর্ণ জীবন-যাপন ও সম্পদ রক্ষার্থে এ সংগঠনের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তোলা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, প্রয়োজনীয় বিধিমালা, দাপ্তরিক আদেশ কার্যকর, ভেড়ীবাঁধ কাটার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে খাস জমি বিতরণ, পুনর্বাসনের পদক্ষেপ এবং নোনা পানির চিংড়ি ঘের বন্ধ করা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সংগঠক মনিরুল হক বাচ্চু, জিল্লুর রহমান, ক্লিন-এর চেয়ারপারসন সাজ্জাদুর রহিম পান্থ, এ্যাওসেড-এর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফিন, বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, পরিবর্তন-খুলনা’র নির্বাহী পরিচালক নাজমুল আযম ডেভিড, ক্লিন-এর সুবর্ণা ইসলাম দিশা ও নাসিম রহমান কিরণ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, আইলায় জেলার কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া উপজেলার ৪৫ টি ইউনিয়ন, চালনা ও পাইকগাছা পৌরসভা এলাকার ৫ লাখ ৪৬ হাজার মানুষ সম্পদ হারায়। এছাড়া ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৪৪ হাজার আংশিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৫৯৭ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে ৫ লাখ ২৫ হাজার মানুষের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসময় ১৮ জনের প্রাণহানী হয় এবং ৪৩. ৩০ কিলোমিটার ভেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গেল শনিবার রোয়ানু নামক ঘূর্ণিঝড় আঘাত না হানলেও জেলার ৩২ কিলোমিটার ভেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খুলনায় জলবায়ু পদযাত্রা , আন্তর্জাতিক জলবায়ু আদালত গঠনের দাবি

Narailkantha.com
নভেম্বর ২৭, ২০১৫
---------------------
নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : উন্নত বিশ্বকে আইনগতভাবে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমনে বাধ্য করার জন্য স্বাধীন আন্তর্জাতিক জলবায়ু আদালত গঠনের দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনসমূহ। শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) খুলনা পিকচার প্যালেস মোড়ে সামনে জলবায়ু পদযাত্রা শেষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এ দাবি তোলেন। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে ন্যায্য ও আইনগতভাবে কার্যকর চুক্তির দাবিতে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট, নোয়াখালী রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এনআরডিএস), পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান), প্রান্তজন ও গ্লোবাল কল টু অ্যাকশন এগেইনস্ট পোভার্টি (জিক্যাপ)-এর যৌথ উদ্যোগে উপকূলীয় অঞ্চলব্যাপী এ পদযাত্রার আয়োজন করে।

ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পরিবর্তন-খুলনার নির্বাহী পরিচালক নাজমুল আযম ডেভিড, বাংলাদেশ মানবাধিকার ইউনিটির সভাপতি শেখ আব্দুল হালিম, জন উদ্যোগের সদস্য সচিব মহেন্দ্রনাথ সেন, ছায়াবৃক্ষের মাহবুব আলম বাদশা, ক্লিন-এর আকবর হোসেন ঋদ্ধ, সূবর্ণা ইসলাম দিশা, রাজিবুল ইসলাম, মাঈনুল ইসলাম সাকিব প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলো ১৯৯৭ সালে প্রণীত কিয়োটো প্রোটোকল না মানার কারণে বাতাসে কার্বনের ঘনত্ব ৪০০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) ছাড়িয়ে গেছে। ক্রমেই বেড়ে যাওয়া উষ্ণতার কারণে বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশগুলো চরম সঙ্কটের মুখে পড়ছে। ঘনঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, ২০৫০ সাল নাগাদ শুধুমাত্র উপকূলীয় অঞ্চল থেকে ২ কোটিরও বেশি মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। এ অবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্বন নির্গমন কমিয়ে আনতে হবে যাতে ২১০০ সাল নাগাদ বিশে^র গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ শিল্পযুগপূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রির চেয়ে বাড়তে না পারে। কিন্তু প্রস্তাবিত খসড়া চুক্তিতে দূষণ কমানোর কোনো মাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয় নি। এছাড়া দূষণকারী দেশগুলো যে পরিমাণ নির্গমন কমানোর সংকল্প প্রকাশ করেছেন, তাও বাধ্যতামূলক নয়। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, ২১০০ সাল নাগাদ তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ৪.৭ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাবে। এ আশঙ্কা সত্য হলে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন গড়ে ২০ শতাংশ কমে যেতে পারে যা চরম খাদ্যসঙ্কট সৃষ্টি করবে।

অপরদিকে, গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড ও অভিযোজন তহবিলসহ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলো পর্যাপ্ত অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন এ নিয়ে গড়িমসি করছে এবং স্বল্পশর্তের অর্থায়নের নামে সুদযুক্ত ঋণ ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো থেকে বিনিয়োগের কথা বলছে। এ ধরনের ঋণের মাধ্যমে গরিব দেশগুলো নতুন নতুন দেনায় জর্জরিত হলেও ধনী দেশগুলোর ঋণবাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো জলবায়ু দুর্যোগের জন্য দায়ী না হয়েও শুধুমাত্র টিকে থাকার জন্য এসব ঋণ নিতে বাধ্য হবে। বক্তারা জলবায়ু-সংক্রান্ত সকল প্রকার ঋণ বাতিলের দাবি জানান।

বক্তারা প্যারিস সম্মেলনে আইনি বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন সার্বজনীন চুক্তি প্রণয়ন, আন্তজার্তিক জলবায়ু আদালত গঠন,  ‘জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের উন্নত দেশগুলোতে সম্মানজনক অভিবাসনের অধিকার প্রদান, জলবায়ু চুক্তিতে অংশীদারিত্ব, ন্যায্যতা ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা, জিসিএফ, অভিযোজন তহবিলসহ অন্যান্য তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা খাতে সকল ধরনের ঋণের সুযোগ বন্ধ করা, জলবায়ু তহবিলের ব্যবহারে স্থানীয় জনসংগঠনের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি, ইতোমধ্যে সংঘটিত ক্ষয়-ক্ষতি পূরণের জন্য অতিরিক্ত ‘ক্ষতিপূরণ’ প্রদান এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়-সাধনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কণ্ঠ জোরদার করাসহ নয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।

ধরিত্রী দিবসের আলোচনায় বক্তারা : টেকসই উন্নয়নের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষার কোনো বিকল্প নেই

Daily Bhorer Dak
Monday, 25 April, 2016 at 12:00 AM
---------------------------------------------
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দারিদ্র্য ও পরিবেশ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এ অঞ্চলের পরিবেশ যেমন বৈচিত্র্যময় তেমনি বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে পালন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু এ দেশের সবথেকে দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলগুলোর একটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। এ অঞ্চলের দারিদ্র্য দূর করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা অতি জরুরি।

আজ (২২ এপ্রিল ২০১৬, শুক্রবার) ৫০তম ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে এ্যাওসেড, ক্লিন, পরিবর্তন-খুলনা ও পথিকৃত-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। ক্লিন-এর চেয়ারপারসন সাজ্জাদুর রহিম পান্থ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন এ্যাওসেড-এর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফিন।

সভায় ধারণাপত্র পাঠ করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। তিনি বলেন, এ বছরের ধরিত্রী দিবসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা এই দিনেই স্বাক্ষরিত হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ‘প্যারিস ঘোষণা’। কিন্তু প্যারিস ঘোষণার সঙ্গে অর্থায়ন ও কার্বন নির্গমন কমানোয় কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য দেখা যাচ্ছে না। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মনিরুল হক বাচ্চু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সবথেকে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলের একটি। পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষিত না হলে আগামী দিনে এ অঞ্চল পুরোপুরি বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে। দেশ-এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, দারিদ্র্য দূর করার জন্যও এ অঞ্চলে যথেষ্ঠ বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু উন্নয়ন ও পরিবেশ এখন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছে। পরিবেশ রক্ষা করে কীভাবে সাধারণ মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায় সেটি নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।

পানি অধিকার কমিটির হুমায়ুন কবির ববি বলেন, পানীয় জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহে খুলনার উন্নয়ন হলে তা এ অঞ্চলের পরিবেশের উপর কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে এখনই পর্যালোচনা করা দরকার। সভায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও উন্নয়নকর্মীদের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নারীনেত্রী রেহানা আখতার, পথিকৃৎ-এর নির্বাহী প্রধান কিউ এস ইসলাম মুক্ত, পরিবর্তন-খুলনা’র নাজমুল আযম ডেভিড, শিরিন পারভীন, ইমরান ইমন, এ্যাওসেড-এর হেলেন খাতুন, আব্দুর রহিম, সুমন বিশ্বাস, ক্লিন-এর রেজাউল করিম জিতু প্রমূখ।
হেলেন খাতুন, সহকারী সমন্বয়কারী, এ্যাওসেড, খুলনা।

চীন-বাংলাদেশ ম্যানগ্রোভ সহযোগিতা সভা খুলনায় অনুষ্ঠিত

Bangla Tribune, Dhaka
খুলনা প্রতিনিধি 
২০:৩৩, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৫ 
----------------------------
Mangrove Photo taken from Bangla Tribune
এশিয়ার ম্যানগ্রোভ রক্ষায় সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ নেওয়ার কোনও বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বের ভূমিকা নেওয়া উচিৎ। কেননা এদেশে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন।

সোমবার খুলনা’র হোটেল রয়্যাল ইন্টারন্যাশনালে আয়োজিত ‘চায়না-বাংলা ম্যানগ্রোভ কোঅপারেশন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। বাংলাদেশের ‘উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)’এবং তাইওয়ানের সি ফাউন্ডেশন, দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোপিস-এশিয়া, চীনের চায়না ম্যানগ্রোভ কনজারভেশন নেটওয়ার্ক (সিএমসিএন) ও ন্যাচার ফান এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

দৈনিক কালের কণ্ঠের খুলনা ব্যুরো প্রধান গৌরাঙ্গ নন্দীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএমসিএন-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক লি ইউ,ন্যাচার ফান-এর প্রধান পরিচালক ই-ফেং হুয়াং, ইকোপিস-এশিয়ার চীন শাখার পরিচালক স্যাংহো পার্ক ও সি ফাউন্ডেশনের প্রকল্প কর্মকর্তা ঝৌ ইয়ান। অন্যদের বক্তৃতা করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী, সিসিইস’র নির্বাহী পরিচালক মওদুদুর রহমান, সুন্দরবন একাডেমি’র পরিচালক ফারুক আহমেদ, ওয়াইল্ড টিমের কো-অর্ডিনেটর রেজভীন আক্তার, বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, জনউদ্যোগ-খুলনার সদস্য সচিব মহেন্দ্রনাথ সেন, জাগ্রত যুব সঙ্ঘ (জেজেএস)-এর রিয়াদ হোসেন প্রমুখ।

চীনের ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে চীনা প্রতিনিধিরা বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে পরিবেশ সংরক্ষণে চীন সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা বাড়ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দৃষ্টি অর্থনৈতিক উন্নয়নে কেন্দ্রীভূত থাকার ফলে সরকারের তুলনায় নাগরিক সংগঠনগুলোর দক্ষতা ও সক্ষমতা বেড়েছে। তাই, নাগরিক সংগঠনগুলো পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারকে সহায়তা করতে পারছে। অপরদিকে, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ থাকায় এখানকার এনজিও ও সরকারের কাছ থেকে শেখার অনেক সুযোগ আছে। তাই সরকারি যোগাযোগের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময় করা দরকার। মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে যৌথভাবে ম্যানগ্রোভ রক্ষায় ভূমিকা পালন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

চীন-বাংলাদেশ ম্যানগ্রোভ সহযোগিতা সভা

বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি, ঢাকা
সোমবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৫
-----------------------------
China-Bangla Mangrove Cooperation
খুলনা প্রতিনিধি: এশিয়ার বাদাবন (ম্যানগ্রোভ) রক্ষায় সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বের ভূমিকা নেয়া উচিৎ। কেননা এদেশে রয়েছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ একক বাদাবন বা ম্যানগ্রোভ বন।

সোমবার খুলনার হোটেল রয়্যাল ইন্টারন্যাশনালে আয়োজিত ‘চায়না-বাংলা ম্যানগ্রোভ কোঅপারেশন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। বাংলাদেশের ‘উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)’ এবং তাইওয়ানের সী ফাউন্ডেশন, দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোপিস-এশিয়া, চীনের ‘চায়না ম্যানগ্রোভ কনজারভেশন নেটওয়ার্ক (সিএমসিএন) ও ন্যাচার ফান্ড এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

দৈনিক কালের কণ্ঠের খুলনা ব্যুরো প্রধান গৌরাঙ্গ নন্দীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএমসিএন-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক লি ইউ, ন্যাচার ফান-এর প্রধান পরিচালক ই-ফেং হুয়াং, ইকোপিস-এশিয়ার চীন শাখার পরিচালক স্যাংহো পার্ক ও সী ফাউন্ডেশনের প্রকল্প কর্মকর্তা ঝৌ ইয়ান। অন্যান্যের বক্তৃতা করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী, সিসিইসি’র নির্বাহী পরিচালক মওদুদুর রহমান, সুন্দরবন একাডেমি’র পরিচালক ফারুক আহমেদ, ওয়াইল্ড টিমের কোঅর্ডিনেটর রেজভীন আক্তার, বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, জনউদ্যোগ-খুলনার সদস্য সচিব মহেন্দ্রনাথ সেন, জাগ্রত যুব সঙ্ঘ (জেজেএস)-এর রিয়াদ হোসেন প্রমূখ।

চীনের বাদাবন সংরক্ষণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে চীনা প্রতিনিধিরা বলেন, বিগত কয়েক বছর যাবৎ পরিবেশ সংরক্ষণে চীন সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দৃষ্টি অর্থনৈতিক উন্নয়নে কেন্দ্রীভূত থাকার ফলে সরকারের তুলনায় নাগরিক সংগঠনগুলোর দক্ষতা ও সক্ষমতা বেড়েছে। তাই, নাগরিক সংগঠনসমূহ পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারকে সহায়তা করতে পারছে। অপরদিকে, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ থাকায় এখানকার এনজিও ও সরকারের কাছ থেকে শেখার অনেক সুযোগ আছে। তাই সরকারি যোগাযোগের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও বাদাবন সংরক্ষণের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময় করা দরকার।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে যৌথভাবে বাদাবন রক্ষায় ভূমিকা পালন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Link: http://banglapress.com.bd/news/national/1492

7 Years of Cyclone Aila: 3,500 Affected People Still On Embankments: Greens

Daily NewAge, Dhaka
Tapos Kanti Das
May 25, 2016 12:36 am
-----------------------------
A makeshift on embankment in Dacope, Khulna
About 3,500 people in severely Aila affected areas of Dacope and Koyra upazilas in Khulna are still living on embankments even after seven years of the cyclonic storm that hit the country’s southwest region on May 25, 2009.

At a press conference at Khulna Press Club on Tuesday, green activists said that the ill-fated victims had to take refuge on embankments for long years as their houses were destroyed by Aila and they became landless as their lands had been eroded.
Campaign for Sustainable Rural Livelihoods and five Khulna-based organisations – Coastal Livelihood and Environmental Action Network, An Organisation for Socio-Economic Development, Jagrata Juba Sangha, Rupayan and Samaj Progoti Sangstha jointly organised the press conference to share their field level experience about Aila affected people marking the seventh anniversary of Aila.
Reading out the written speech, Coastal Livelihood and Environmental Action Network chief executive Hasan Mehedi said that coastal embankments were still weak keeping the locals vulnerable to water surges.

He said that influential quarters had constantly been weakening the embankments damaging them to pour saline water in their shrimp enclosures as the authorities concerned were not active to resist them.

Hasan Mehedi said that such acts of the influential quarters could be resisted if the government implemented the Disaster Management Act.

He placed six-point demands including strict enforcement of the Disaster Management Act, rehabilitation of the people who were still suffering in the affected areas, strengthening coastal embankments in an environment-friendly way, stopping saline water shrimp farms in agricultural lands and enforcing the Integrated Coastal Zone Management Policy in every programme in the coastal areas.

Hasan Mehedi told New Age that the government could allocate Khas lands for the people living on embankments and provide them with easy loans to construct homes and for their rehabilitation.

Revolutionary Workers Party leader Monirul Huq Bachchu, AOSED executive director Shamim Arfeen, Bangladesh Environmental Lawyers Association Khulna divisional coordinator Mahfuzur Rahman Mukul and Paribartan-Khulna executive director Nazmul Azam David also spoke.

As per statistics of the upazila administrations, Aila damaged 25,067 houses totally and 8,349 houses partially at Dacope upazila and 23,820 houses totally and 18,620 houses partly at Koyra upazila.

Cyclone Aila Victims are in Grip of World Bank?

CLEAN News, 13 October 2010
Hasan Mehedi, Khulna
--------------------------------------
We are in doubt.
We anxious that the Aila damaged embankments may not be reconstructed in this year.
We are in fear that we might be in saline water for a more year.

It can be easily assumed that the government is waiting for a loan from World Bank to reconstruct the coastal embankments, as the newspapers said. Several newspapers have published alarming news of World Bank's involvement in reconstruction of Aila-damaged embankments. According to the news in Daily Star and Daily Newage, World Bank (WB) has agreed to provide a credit of 75 million USD (BDT 5.25 billion) for several programmes including embankments reconstruction, cyclone shelter repairing, agriculture-fisheries-livestock rehabilitation and reducing disaster risks.
 
Out of 5.25 billion 1.05 billion Taka (USD 15 million) will be spent for reconstruction of 80 kilometres Aila-damaged embankments. In the project paper of Emergency Cyclone Recovery and Reconstruction Project (ECRRP), the WB scheduled disbursement of 1st installment (BDT 350 million) of the credit in 2011. Now the 300 thousand affected people have a question, "is it going to be delayed?"

After a year-long campaign, the Prime Minister (PM) of Bangladesh, Sheikh Hasina, visited the Aila affected areas of southwest coastal region of Bangladesh on last 23rd June 2010. More than 300 thousand inundated cyclone Aila victims had been waiting for one year and three months for that moment with only one demand: Immediately Reconstruction of Aila-damaged Embankments of Khulna and Satkhira district. The civil society and political groups' expectation to the PM touched the peak. In response of the people's demand honourable PM declared that Aila-damaged embankments would be reconstructed within dry season of 2010 (Nov-Dec-Jan).
 
Then the inundated people started counting time of execution. They are still waiting for going back ancestral homes. To this end, tender notice of reconstruction was to issue from Bangladesh Water Development Board (BWDB) within July-August 2010. But no progress has been seen till this mid-October. Now, we doubt like last year, that the breached embankments may not be reconstructed in this year! The Government should make it clear to the affected people.

CYCLONE AILA AND SUFFERINGS
The cyclone Aila hit the southwest coastal region of Bangladesh on 25th May 2009. More than 190 people died and 700 kilometre coastal embankments breached by the storm and surges following cyclone Aila. 500 thousand people of 11 Unions under Khulna and Satkhira district severely affected by the cyclone and more than 300 thousand became homeless. Above 150 thousand people took shelter on the embankments and other 100 thousand became forced migrants and shifted to the big cities and neighboring countries.
 
Though the people were in serious lack of water and food after cyclone Aila, they cried for reconstruction of damaged embankments before all other supports. Primarily, the government and NGOs started repairing under Food for Work and Taka for Work scheme but after a certain period they left it as the authorities decided that the breached embankments could not be repaired in rainy season and committed to repair them within dry season of 2009. Aila victims were agreed to wait for winter even in that inhumane situation.

But even after the winter season, when monsoon started in coastal zone, BWDB did not take any step to repair the embankments. In January 2010, Aila Durgoto Sanghati Mancho (Aila-Victims Solidarity Platform) and Upokulio Beribandh Nirman Gonoshangram Committee (Peoples Committee to Reconstruct Coastal Embankments) has been formed with participation of political leaders, people's forums, NGOs, civil society leaders and professional groups. Dhaka-based Nagorik Sanghati joined them in March 2010. Campaign for Sustainable Rural Livelihoods (CSRL) and Emergency Capacity Building (ECB) Project started supporting these peoples movement. The groups organized several programs including press conference, sit-in program, farmers' procession, blockade of BWDB Office and submission of memorandum to the Prime Minister.

Seeing the tears of the Aila victims, Minister for Water Resources and Minister for Food and Disaster Management and Parliamentary standing committees visited the affected areas and ordered BWDB to complete reconstruction before monsoon. But all of these orders washed away with the stream of rivers. At last, after a one-month long program, honorable PM ordered BWDB to complete all reconstruction before rainy season. This order also ignored and situation of Aila victims remains unchanged. In the mean time hundred cores of money spent without any result and thousands of people still under the saline water. The country is losing more than 800 tonnes of crops per season!

On the other hand, the 4-party vested interest groups are benefited from this situation: the shrimp-farm owners, contractors, corrupted officials of BWDB and local influential persons. All of them are benefited by saline water shrimp farming in water logged areas, repairing embankments several times, bribe and corruption in relief and rehabilitation work.

THE LAST LINES
It is assumed because BWDB was delaying tender process in 2009 like this year. They called tender in November 2009 and issued Work Order in February 2010. At the same time, river water started rising as an effect of monsoon.

Who can explain the actual objectives of the government? When will the declaration of PM will be executed?

Support Aila Victims for Eid 2010

CLEAN News, 20 September 2010
Hasan Mehedi, Khulna
-----------------------------------------
The Aila-Durgoto Sanghati Mancho (Aila-victims solidarity platform) and Aila-biddhosto Upokulyo Beribandh Nirman Gonosongram Committee (Peoples Movement Committee for Reconstruction of Aila-damaged Coastal Embankments) jointly organised a press conference on 6 September 2010 11:30 AM in Khulna Press Club, Khulna, Bangladesh with demand of emergency support to the Aila-victims for observing coming Eid-ul-fitr festival, the main religious festival of Muslims.

The leaders of the Mancho also urge for immediate reconstruction of cyclone Aila-damaged embankments so that the affected people can go back home to recover their traditional livelihoods and normal life. They presented five-points demands including emergency Eid support; reconstruction of breached embankments; publishing report of Parliamentary Probing Committee formed in March 2010; investigation of corruption in relief, construction and rehabilitation works; and protection and agricultural subsidiary for small and marginal farmers.

The written speech was presented by Mancho convener Advocate Feroz Ahmed. In the written speech Feroz Ahmed said, "after only four or five days, the whole nation is going to observe holy Eid with amusement and joy. But the Eid does not bring any joy to hundreds of thousands of Aila victims of Dacope and Koyra Upazila under Khulna district and Assasuni and Shyamnagar Upazila under Satkhira district. More than 100 thousand people still living under the open sky on the embankments even though 15 months have passed after the devastating cyclone Aila had hit the area on 25th May 2009".

Mr. Ahmed said, "After continuous movement of Aila-durgoto Sanghati Mancho and Aila-biddhosto Upokulyo Beribandh Nirman Gonosongram Committee, the high profile government policy makers had visited the area several times and express commitment to repair the embankments before April 2010. But there is no noticeable improvement of the situation though the government has already spent around Tk 6 billion".

He said, "the local MP (Member of Parliament) of Khulna-1 Mr. Nani Gopal Mondal has committed to complete tender process within last July 2010. The honourable Prime Minister Sheikh Hasina visited the Aila-affected area on 23rd July 2010 and declared that the breached embankments would be reconstructed within next dry season in 2010. But no progress observed till now". The platform blamed four interlinked forces such as BWDB (Bangladesh Water Development Board), contractors, owners of brackish water shrimp farms and local influential leaders for failure of reconstruction.

In the speech, the Platform said, "the Aila-hit people break their fast during Ramadan by drinking only water. They cannot always take Sehri (early morning meal), let alone prepare for Eid celebration. Their children are looking forward for a new dress like ours. But they are not able to provide any dress or improved food to their children. The Prime Minister has inaugurated distribution of House Grants for the Aila-affected people on 23rd July. Under this project, every family was expected to get Tk 20,000. However, those allowances are yet to be distributed".

After report of several newspapers tracked by the Platform the Government has distributed 1,600 sharies among the women and 10 kgs of rice to each of the 6,000 affected families to observe Eid festival. The platform leaders alleged that such assistance from the government is 'not adequate'. Besides, the holy Durga Puja of Hindu communities, who are majority in these affected areas, is going to observe in 2nd week of October. But no preparation is observed to support the communities to enjoy this main religious festival of Hindu communities.

Among others, political and civil society leaders including Greater Khulna Movement Committee vice president Sheikh Ashraf-Uz-Zaman, JSD city president Rafiqul Huq Khokon and district secretary Mohammad Kaykobad, CPB district secretary SA Rashid, Revolutionary Workers Party district leader Monirul Huq Bacchu, Bangladesher Workers Party leader Farukul Islam and Monir Ahmed, NAP district president Fazlur Rahman and secretary Tapan Roy, and Aila-durgoto Sanghati Mancho secretary Hasan Mehedi was present in the Press Conference.

Bangladeshi national leading newspaper daily Prothom Alo, daily Jugantor, daily Jaijaidin and online newspaper Bdnews24.com along with local newspapers such as daily Anirban, daily Janmabhumi, daily Probaho, daily Probartan, daily Somoyer Khobor and daily Tathya published the news of press conference with due treatment.