দৈনিক খুলনাঞ্চল : বন্যপ্রাণ রক্ষা ও আমাদের সুন্দরবন

The Daily Khulnanchal
6 June 2016, Monday
----------------------------------
Hasan Mehedi, Chief Executive, CLEAN
প্রতিবছরের মতো এবারও পৃথিবীব্যাপী পালিত হয়ে গেল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭৩ সাল থেকে জাতিসঙ্ঘ পরিবেশ কর্মসূচির উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘গো ওয়াইল্ড ফর লাইফ’ যার সরল বঙ্গার্থ দাঁড়ায় ‘জীবনের জন্য, বাঁচাও বন্যপ্রাণ’। বাংলাদেশ সরকার অবশ্য একটু ব্যাপক করে প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করেছে ‘বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ, বাঁচায় প্রকৃতি বাঁচায় দেশ।’ কিন্তু ওয়াইল্ড বলতে শুধুমাত্র ‘প্রাণী’ বোঝায় না, বরং প্রাণীর বাইরেও যে ব্যাপক ‘প্রাণসম্পদ’ আছে সেগুলোকেও অন্তর্ভূক্ত করে।

মোটকথা, পৃথিবীতে যে হারে বন্যপ্রাণ কমে যাচ্ছে তা সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। জাতিসঙ্ঘের হিসাবমতে, গণ্ডার, হাতি, গরিলা, শিম্পাঞ্জি, বাঘ, বনরুই ও মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। কেন কমে যাচ্ছে? জাতিসঙ্ঘেরই আরেক হিসাবমতে, বন্যপ্রাণী পাচারে এ বছর ২০ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন হয়েছে যা ২০১৪ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। ২০১২ সালে সুন্দরবনেরর এক চোরাশিকারী স্বীকার করেন যে, এক বছরে তিনিএকাই ২৭টি বাঘ মেরেছেন। যদিও বন বিভাগ তার বক্তব্য আমলে নেয়নি। তবে বন বিভাগের নিজেদের প্রতিবেদনই বলছে যে, ১৯৯৯-২০১৫ মেয়াদের ১৬ বছরে সুন্দরবনে বাঘ মারা হয়েছে ৫২টি। অর্থাৎ ৫২টি হত্যার ঘটনা বন বিভাগের নথিপত্রে আছে। নথিপত্রের বাইরে কিছুই নেই, এ কথা মানার যথেষ্ঠ কারণ দেখা যাচ্ছে না।

১৯৭২ সাল থেকেই জাতিসঙ্ঘ ও সদস্য দেশগুলো পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে। বিপন্ন বন্যপ্রাণীর বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ১৯৭৩ সালে গ্রহণ করা হয় আন্তর্জাতিক বিপন্ন বন্য উদ্ভিদ ও প্রাণীবাণিজ্য বিষয়ক কনভেনশন (সাইটেস)। এ সনদে স্বাক্ষরকারী ১৮২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তার মানে পৃথিবীর ১৮২টি দেশই বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে চায়। কিন্তু তাতেও রক্ষা পাচ্ছে না বন্যপ্রাণীরা।

২০১০-২০১২ এই দুই বছরে শুধু আফ্রিকায় ১ লাখ হাতি হত্যা করা হয়েছে আর তা থেকে বাজারে সরবরাহ হয়েছে ১৭০ টন গজদন্ত চূর্ণ। চীন, কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের চোরাই বাজারে রয়েছে বাঘের বিভিন্ন অঙ্গের বিপুল চাহিদা। গবেষণার জন্য শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৭২ হাজার বানর চোরাই বাজার থেকে কেনা হয়। হরিণ, কুমীর, উদবিড়াল, অজগরসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীরও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এ সবগুলোই প্রকাশিত তথ্য, পানিতে ভেসে থাকা বরফের সামান্য অংশমাত্র। অপ্রকাশিত বিপুল বন্যপ্রাণীর বাজার নিয়ন্ত্রণ করা এখন খুবই জরুরি।

পাভেল পার্থ আমাদের বন্ধু। জনপ্রতিবেশবিদ্যা নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচিত তিনি। একদিনের আড্ডায় বাঘের সংখ্যা নিয়ে কথা উঠলে তিনি বললেন, “১৯৬০’র দশক থেকেই বাংলাদেশ সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা দেখা যাচ্ছে ৩৫০-৪৫০টি। পৃথিবীতে জন্মমৃত্যুর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর সব প্রাণীর সংখ্যাবৃদ্ধি হয়। বাঘের কি এগুলো কিছুই হয় না?” আমরা অনেকক্ষণ বিষয়টি নিয়ে মজা করলেও ঘটনাটি কিন্তু মোটেই মজার না।

আগে ৩৫০-৪৫০ বাঘের কথা বললেও সাম্প্রতিক সময়ে সবথেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে সরকারিভাবে যে গবেষণা হয়েছে তাতে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০৬টি। অথচ ‘জলে কুমীর ডাঙায় বাঘ’ বলেই সুন্দরবনের সাধারণ পরিচয় দেয়া হয়। বাঘ কমেছে, কিন্তু কুমীর বেড়েছে এমনটা নয় কিন্তু। ষাট ও সত্তরের দশকে সুন্দরবন-সংলগ্ন অঞ্চলে মানুষ কুমীরের ভয়ে নদীতে স্নান করতে নামতো না। তখনকার হিসাব অনুসারে সুন্দরবনে নোনাপানির কুমীরের সংখ্যা ছিলো দেড় হাজারেরও বেশি, এখন তা কমতে কমতে এসে দাঁড়িয়েছে ২০০-২৫০টিতে। দেড়লাখ থেকে হরিণেরসংখ্যাও নেমে এসেছে ৫০-৬০ হাজারে।

আর হারিয়ে যাবার দলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে নতুন নতুন বন্যপ্রাণ। ইতোমধ্যেই যা যা হারিয়ে গেছে তা কাঁদলেও ফিরে পাওয়া যাবে না। পারা হরিণ বা কুকুরে হরিণ, বারো শিঙ্গা, বুনোষাঁড়, জাভাগণ্ডার, চিতাবাঘের পাশাপাশি হারিয়ে গেছে বুনোমহিষও যা ষাটের দশকেও দলে দলে চরে বেড়াতো বলে সুন্দরবনের ইতিহাসবিদ এএফএম আব্দুল জলিল লিখে গেছেন। পাখির মধ্যে সাদা মানিক জোড়, কানঠুনি, বোঁচাহাঁস, গগনবেড়, জলার তিতিরসহ অন্তত ১৫টি প্রজাতি আর কোনোদিন সুন্দরবনে দেখা যাবে কি না সন্দেহ। রয়না, কালো হাঙ্গর, তীরন্দাজ, জাভা, কাইক্কা, কাজলী, শিলং, কাইন মাগুর, দাতিনা ও লাক্ষাসহ ১৫-২০ প্রজাতির মাছ হয় এখন আর পাওয়া যায় না, নতুবা খুব দ্রুতই হারিয়ে যাবে এ অঞ্চল থেকে।

বন্যপ্রাণ উজাড় হয়ে যাবার পেছনে যে শুধু অতিরিক্ত সংগ্রহ ও চোরাই শিকার দায়ী, তা নয়। উজানে আড়বাঁধ দেয়ার ফলে সুন্দরবনে স্বাদুপানির অভাব, নদী-খাল মরে যাওয়ায় প্রতিবেশের অধঃপাত, জলোচ্ছ্বাসে বনের ভেতরে নোনাপানি প্রবেশ, বৃক্ষনিধনের ফলে আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া, অতিরিক্ত পর্যটকের আনাগোনা, শব্দদূষণ, বিসদৃশ রঙিন ও চকচকে অবকাঠামো এবং উজানের বর্জ্যও কম দায়ী নয়।

সবশেষ দায়টি দিয়েছে স্বয়ং বিশ্ব বন্যপ্রাণ তহবিল (ডাব্লিউডাব্লিউএফ)। এ বছর এপ্রিলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্বসংস্থাটি বলছে যে, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর বিপন্নতার কারণ মূলত পাঁচটি : বনসংলগ্ন এলাকায় ভারী শিল্প নির্মাণ, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে জাহাজসহ নৌযান চলাচল, অতিরিক্ত মৎস্য সংগ্রহ, বৃক্ষনিধন এবং অদূরদর্শী পানি ব্যবস্থাপনা।

পৃথিবীর সবথেকে বড়ো একক বাদাবন, সুন্দরবন ও তাঁর বন্যপ্রাণ বাঁচাতে এখনই ক্ষতিকর উদ্যোগগুলো বন্ধ করা ও ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

হাসান মেহেদী : সদস্য সচিব, সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল (mehedi.coastline@gmail.com)

দলিত ভয়েস : বন্যপ্রাণ রক্ষা ও আমাদের সুন্দরবন

Dalitvoice24.com
Jun 04, 2016 Asafur Rahman Kajal
------------------------------------------
প্রতিবছরের মতো এবারও সারা পৃথিবীব্যাপী পালিত হয়ে গেল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭৩ সাল থেকে জাতিসঙ্ঘ পরিবেশ কর্মসূচির উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘গো ওয়াইল্ড ফর লাইফ’ যার সরল বঙ্গার্থ দাঁড়ায় ‘জীবনের জন্য, বাঁচাও বন্যপ্রাণ’। বাংলাদেশ সরকার অবশ্য একটু ব্যাপকতর করে প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করেছে ‘বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ, বাঁচায় প্রকৃতি বাঁচায় দেশ।’ কিন্তু ওয়াইল্ড বলতে শুধুমাত্র ‘প্রাণী’ বোঝায় না, বরং প্রাণী ছাড়াও যে ব্যাপকতর ‘প্রাণসম্পদ’ আছে সেগুলোকেও অন্তর্ভূক্ত করে।

মোটকথা, পৃথিবীতে যে হারে বন্যপ্রাণ কমে যাচ্ছে তা সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। জাতিসঙ্ঘের হিসাবমতে, গন্ডার, হাতি, গরিলা, শিম্পাঞ্জি, বাঘ, বনরুই ও মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। কেন কমে যাচ্ছে? এই জাতিসঙ্ঘেরই আরেক হিসাবমতে, বন্যপ্রাণী পাচারে এ বছর ২০ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকাঅবৈধ লেনদেন হয়েছে যা ২০১৪ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। ২০১২ সালে সুন্দরবনেরর এক চোরাশিকারী স্বীকার করেন যে, এক বছরে তিনি একাই ২৭টি বাঘ মেরেছেন। যদিও বন বিভাগ তার বক্তব্য আমলে নেয়নি। তবে খোদ বন বিভাগের প্রতিবেদন বলছে যে, ১৯৯৯-২০১৫ মেয়াদের ১৬ বছরে সুন্দরবনে বাঘ মারা হয়েছে ৫২টি। অর্থাৎ ৫২টি বাঘ মারার ঘটনা বন বিভাগের হাতে ধরা পড়েছে।

১৯৭২ সাল থেকেই জাতিসঙ্ঘ ও সদস্য দেশগুলো পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে। বিপন্ন বন্য প্রাণীর বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ১৯৭৩ সালে গ্রহণ করা হয় আন্তর্জাতিক বিপন্ন বন্য উদ্ভিদ ও প্রাণীবাণিজ্য বিষয়ক কনভেনশন (সাইটেস)। এ সনদে স্বাক্ষরকারী ১৮২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তার মানে পৃথিবীর ১৮২টি দেশই বন্য প্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে চায়। কিন্তু তাতেও রক্ষা পাচ্ছে না বন্যপ্রাণীরা।

২০১০-২০১২ এই দুই বছরে শুধু আফ্রিকায় ১ লাখ হাতি হত্যা করা হয়েছে আর তা থেকে বাজারে সরবরাহ হয়েছে ১৭০ টন গজদন্ত চূর্ণ। চীন, কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের চোরাই বাজারে রয়েছে বাঘের বিভিন্ন অঙ্গের বিপুল চাহিদা। গবেষণার জন্য শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৭২ হাজার বানর চোরাই বাজার থেকে কেনা হয়। হরিণ, কুমীর, উদবিড়াল, অজগরসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীরও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এ সবগুলোই প্রকাশিত তথ্য, পানিতে ভেসে থাকা বরফের সামান্য অংশমাত্র। অপ্রকাশিত বিপুল বন্য প্রাণীর বাজার নিয়ন্ত্রণ করা এখন খুবই জরুরি।

পাভেল পার্থ আমাদের বন্ধু। জনপ্রতিবেশবিদ্যা নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচিত তিনি। একদিনের আড্ডায় বাঘের সংখ্যা নিয়ে কথা উঠলে তিনি বললেন, “১৯৬০’র দশক থেকেই বাংলাদেশ সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা দেখা যাচ্ছে ৩৫০-৪৫০টি। পৃথিবীতে জন্মমৃত্যুর মধ্য দিয়ে সব প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি হয়। বাঘের কি এগুলো কিছুই হয় না?” আমরা অনেকক্ষণ বিষয়টি নিয়ে মজা করলেও ঘটনাটি কিন্তু মোটেই মজার না।

এখন কিন্তু ৩৫০-৪৫০টিরও সময় শেষ। সাম্প্রতিক সময়ে সবথেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে সরকারিভাবে যে গবেষণা হয়েছে তাতে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০৬টি। অথচ ‘জলে কুমীর ডাঙায় বাঘ’ বলেই সুন্দরবনের সাধারণ পরিচয় দেয়া হয়। বাঘ কমেছে, কিন্তু কুমীর বেড়েছে এমনটা নয় কিন্তু। ষাট ও সত্তরের দশকে সুন্দরবন-সংলগ্ন অঞ্চলে মানুষ কুমীরের ভয়ে নদীতে স্নান করতে নামতো না। তখনকার হিসাব অনুসারে সুন্দরবনে নোনাপানির কুমীরের সংখ্যা ছিলো দেড় হাজারেরও বেশি, এখন তা কমতে কমতে এসে দাঁড়িয়েছে ২০০-২৫০টিতে। দেড়লাখ থেকে হরিণের সংখ্যাও নেমে এসেছে ৫০-৬০ হাজারে।

হারিয়ে যাবার এই স্রোত কিন্তু থামছে না বরং দলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে নতুন নতুন বন্যপ্রাণ। ইতোমধ্যেই যা যা হারিয়ে গেছে তা কাঁদলেও আর ফিরে পাওয়া যাবে না। পারা হরিণ বা কুকুরে হরিণ, বারো শিঙ্গা, বুনোষাঁড়, জাভা গন্ডার, চিতাবাঘের পাশাপাশি হারিয়ে গেছে বুনোমহিষও যা ষাটের দশকেও দলে দলে চরে বেড়াতো বলে সুন্দরবনের ইতিহাসবিদ এএফএম আব্দুল জলিল লিখে গেছেন।

পাখির মধ্যে সাদা মানিকজোড়, কানঠুনি, বোঁচাহাঁস, গগনবেড়, জলার তিতিরসহ অন্তত ১৫টি প্রজাতি আর কোনোদিন সুন্দরবনে দেখা যাবে কি না সন্দেহ। রয়না, কালো হাঙ্গর, তীরন্দাজ, জাভা, কাইক্কা, কাজলী, শিলং, কাইন মাগুর, দাতিনা ও লাক্ষাসহ ১৫-২০ প্রজাতির মাছ হয় এখন আর পাওয়া যায় না, নতুবা বিপন্ন হয়ে পড়েছে সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী এলাকায়।

বন্যপ্রাণ উজাড় হয়ে যাবার পেছনে যে শুধু অতিরিক্ত সংগ্রহ ও চোরাই শিকার দায়ী, তা নয়। উজানে আড়বাঁধ দেয়ার ফলে সুন্দরবনে স্বাদুপানির অভাব, নদী-খাল মরে যাওয়ায় প্রতিবেশের অধঃপাত, জলোচ্ছ্বাসে বনের ভেতরে নোনাপানি প্রবেশ, বৃক্ষনিধনের ফলে আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া, অতিরিক্ত পর্যটকের আনাগোনা, শব্দদূষণ, বিসদৃশ রঙিন ও চকচকে অবকাঠামো এবং উজানের বর্জ্যও কম দায়ী নয়।

সবশেষ দায়টি দিয়েছে স্বয়ং বিশ্ব বন্যপ্রাণ তহবিল (ডাব্লিউডাব্লিউএফ)। এ বছর এপ্রিলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্বসংস্থাটি বলছে যে, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর বিপন্নতার কারণ মূলত পাঁচটি : বনসংলগ্ন এলাকায় ভারী শিল্প নির্মাণ, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে জাহাজসহ নৌযান চলাচল, অতিরিক্ত মৎস্য সংগ্রহ, বৃক্ষনিধন এবং অদূরদর্শী পানি ব্যবস্থাপনা।

পৃথিবীর সবথেকে বড়ো একক বাদাবন, সুন্দরবন ও তাঁর বন্যপ্রাণ বাঁচাতে এখনই ক্ষতিকর উদ্যোগগুলো বন্ধ করা ও ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

-হাসান মেহেদী : সদস্য সচিব, সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল

দৈনিক সমকাল : বন্যপ্রাণ রক্ষা ও আমাদের সুন্দরবন

Daily Samakal, Dhaka
Post Editorial, 5 June 2016, Sunday
হাসান মেহেদী
-------------------------------------------
পৃথিবীতে যে হারে বন্যপ্রাণ কমে যাচ্ছে তা সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। জাতিসংঘের হিসাবমতে, গণ্ডার, হাতি, গরিলা, শিম্পাঞ্জি, বাঘ, বনরুই ও মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। কেন কমে যাচ্ছে? জাতিসংঘের হিসাবমতে, বন্যপ্রাণী পাচারে এ বছর ২০ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন হয়েছে, যা ২০১৪ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। ২০১২ সালে সুন্দরবনের এক চোরা শিকারি স্বীকার করে, এক বছরে সে একাই ২৭টি বাঘ মেরেছে। যদিও বন বিভাগ তার বক্তব্য আমলে নেয়নি। তবে বন বিভাগের প্রতিবেদন বলছে, ১৯৯৯-২০১৫ মেয়াদে ১৬ বছরে সুন্দরবনে বাঘ মারা হয়েছে ৫২টি।

১৯৭২ সাল থেকেই জাতিসংঘ ও সদস্য দেশগুলো পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে। বিপন্ন বন্যপ্রাণীর বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ১৯৭৩ সালে গ্রহণ করা হয় আন্তর্জাতিক বিপন্ন বন্য উদ্ভিদ ও প্রাণী বাণিজ্য বিষয়ক কনভেনশন (সাইটেস)। এ সনদে স্বাক্ষরকারী ১৮২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তার মানে, পৃথিবীর ১৮২টি দেশই বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে চায়। তাতেও রক্ষা পাচ্ছে না বন্যপ্রাণীরা।

২০১০-২০১২ এ দুই বছরে শুধু আফ্রিকায় ১ লাখ হাতি হত্যা করা হয়েছে। আর তা থেকে বাজারে সরবরাহ হয়েছে ১৭০ টন গজদন্ত চূর্ণ। চীন, কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের চোরাই বাজারে রয়েছে বাঘের বিভিন্ন অঙ্গের বিপুল চাহিদা। গবেষণার জন্য শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৭২ হাজার বানর চোরাই বাজার থেকে কেনা হয়। হরিণ, কুমির, উদ্বিড়াল, অজগরসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীরও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এসবই প্রকাশিত তথ্য, পানিতে ভেসে থাকা বরফের সামান্য অংশমাত্র। অপ্রকাশিত বিপুল বন্যপ্রাণীর বাজার নিয়ন্ত্রণ করা এখন খুবই জরুরি।

পাভেল পার্থ আমাদের বন্ধু। জনপ্রতিবেশবিদ্যা নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচিত তিনি। একদিনের আড্ডায় বাঘের সংখ্যা নিয়ে কথা উঠলে তিনি বললেন, '১৯৬০-এর দশক থেকেই বাংলাদেশে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা দেখা যাচ্ছে ৩৫০-৪৫০টি। পৃথিবীতে জন্ম-মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর সব প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি হয়। বাঘের কি এগুলো কিছুই হয় না?' আমরা অনেকক্ষণ বিষয়টি নিয়ে মজা করলেও ঘটনাটি কিন্তু মোটেই মজার নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে সরকারিভাবে যে গবেষণা হয়েছে, তাতে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০৬টি। অথচ 'জলে কুমির ডাঙায় বাঘ' বলেই সুন্দরবনের সাধারণ পরিচয় দেওয়া হয়। বাঘ কমেছে, কিন্তু কুমির বেড়েছে_ এমনটা নয় কিন্তু। ষাট ও সত্তরের দশকে সুন্দরবন-সংলগ্ন অঞ্চলে মানুষ কুমিরের ভয়ে নদীতে স্নান করতে নামত না। তখনকার হিসাব অনুসারে সুন্দরবনে নোনাপানির কুমিরের সংখ্যা ছিল দেড় হাজারেরও বেশি। এখন তা কমতে কমতে এসে দাঁড়িয়েছে ২০০-২৫০টিতে। দেড় লাখ থেকে হরিণের সংখ্যাও নেমে এসেছে ৫০ হাজারে।

আর হারিয়ে যাওয়ার দলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে নতুন নতুন বন্যপ্রাণ। ইতিমধ্যে যা যা হারিয়ে গেছে কাঁদলে তা ফিরে পাওয়া যাবে না। পারা হরিণ বা কুকুরে হরিণ, বারো শিঙ্গা, বুনো ষাঁড়, জাভা গণ্ডার, চিতাবাঘের পাশাপাশি হারিয়ে গেছে বুনো মহিষও, যা ষাটের দশকেও দলে দলে চরে বেড়াত বলে সুন্দরবনের ইতিহাসবিদ এএফএম আবদুুল জলিল লিখে গেছেন। পাখির মধ্যে সাদা মানিকজোড়, কানঠুনি, বোঁচা হাঁস, গগনবেড়, জলার তিতিরসহ অন্তত ১৫টি প্রজাতি আর কোনোদিন সুন্দরবনে দেখা যাবে কি-না সন্দেহ। রয়না, কালো হাঙ্গর, তীরন্দাজ, জাভা, কাইক্কা, কাজলী, শিলং, কাইন মাগুর, দাতিনা, লাক্ষাসহ ১৫-২০ প্রজাতির মাছ হয় এখন আর পাওয়া যায় না, নতুবা খুব দ্রুতই হারিয়ে যাবে এ অঞ্চল থেকে।

বন্যপ্রাণ উজাড় হয়ে যাওয়ার পেছনে যে শুধু অতিরিক্ত সংগ্রহ ও চোরাই শিকার দায়ী, তা নয়। উজানে আড়বাঁধ দেওয়ার ফলে সুন্দরবনে স্বাদুপানির অভাব, নদী-খাল মরে যাওয়ায় প্রতিবেশের অধঃপাত, জলোচ্ছ্বাসে বনের ভেতরে নোনাপানি প্রবেশ, বৃক্ষনিধনের ফলে আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া, অতিরিক্ত পর্যটকের আনাগোনা, শব্দদূষণ, বিসদৃশ রঙিন ও চকচকে অবকাঠামো এবং উজানের বর্জ্যও কম দায়ী নয়।

সর্বশেষ দায়টি দিয়েছে স্বয়ং বিশ্ব বন্যপ্রাণ তহবিল (ডবি্লউডবি্লউএফ)। এ বছর এপ্রিলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্বসংস্থাটি বলছে, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর বিপন্নতার কারণ মূলত পাঁচটি :বনসংলগ্ন এলাকায় ভারী শিল্প নির্মাণ, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে জাহাজসহ নৌযান চলাচল, অতিরিক্ত মৎস্য সংগ্রহ, বৃক্ষনিধন এবং অদূরদর্শী পানি ব্যবস্থাপনা।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় একক বাদাবন সুন্দরবন ও তার বন্যপ্রাণ বাঁচাতে এখনই ক্ষতিকর উদ্যোগগুলো বন্ধ করা ও ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর আড়াই হাজার পোস্টকার্ড

জেলা সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৮৩৮ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ৩১ মে ২০১৬
---------------------------------------
CLEAN, Khulna: Postcard Campaign demanding increased allocation for Agriculture in National Budget
বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আড়াই হাজার পোস্টকার্ড পাঠিয়েছে গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়ীত্বশীল প্রচারঅভিযান (সিএসআরএল) ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোটসহ (ক্লনি) পাঁচ সংগঠন।

আন্তর্জাতিক দাতব্য সংগঠন অক্সফ্যাম ও গ্রো এর সহযোগিতায় সারা দেশ থেকে এ রকম এক লাখ পোস্টকার্ড প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। পোস্টকার্ডে স্বাক্ষর করেছেন সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, কৃষিজীবী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ নানা পেশাজীবী মানুষ।

পোস্টকার্ড ক্যাম্পেইনের শেষদিনে মঙ্গলবার নগরীর বয়রা বাজারে পাঁচ শতাধিক মানুষের স্বাক্ষরসহ খুলনা জিপিওতে পোস্টকার্ডগুলো জমা দেয়া হয়।

পোস্টকার্ড ক্যাম্পেইন থেকে জানানো হয়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে কৃষিখাতে বাজেটের ৬.৬ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়, যা ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বরাদ্দ কমতে থাকলেও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কিছুটা বেড়ে ৫.৫ শতাংশে পৌঁছায়। কিন্তু এরপর থেকে কৃষিখাতে বরাদ্দ কমতে কমতে এখন ৪.৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। চার  বছরে বাজেটের আকার ৭০ শতাংশ বাড়লেও কৃষিখাতে বরাদ্দ কমেছে ১৫ শতাংশ। এছাড়া কৃষিতে ভর্তুকি কমেছে ২৫ শতাংশ।

পোস্টকার্ড ক্যাম্পেইনে কৃষিখাতে মোট বাজেটের সাত শতাংশ বরাদ্দ দেয়া এবং কৃষি উপকরণ ও মূল্য সহায়তা ভর্তুকি বাবদ মোট উৎপাদনের দশ শতাংশ বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানানো হয়।

এ ক্যাম্পেইনে অন্যান্যদের সাথে অংশগ্রহণ করেন খানজাহান আলী কৃষি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির জেলা সংগঠক মনিরুল হক বাচ্চু প্রমুখ।

Link: http://www.newsbangladesh.com/details/28392

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পোস্টকার্ড পাঠিয়ে কৃষিখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি

৩১ মে ২০১৬ মঙ্গলবার, ০৬:১৩  পিএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
-----------------------------------
CLEAN, Khulna: Postcard Campaign demanding increased allocation for Agriculture in national Budget
আগামী বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর নিকটে আড়াই হাজার পোস্টকার্ড প্রেরণ করলো গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)সহ ৫টি সংগঠন।

আন্তর্জাতিক দাতব্য সংগঠন অক্সফ্যাম ও গ্রো-এর সহযোগিতায় সারাদেশ থেকে এরকম ১ লক্ষ পোস্টকার্ড প্রেরণ করা হয়। পোস্টকার্ডে সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিক, কৃষক-কৃষাণী, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ সমাজের নানা পেশার প্রতিনিধিগণ স্বাক্ষর করেছেন।

মঙ্গলবার পোস্টকার্ড ক্যাম্পেইনের সমাপনী দিনে নগরীর বয়রা বাজারে ৫ শতাধিক মানুষের স্বাক্ষরসহ খুলনা জিপিওতে পোস্টকার্ডগুলো জমা দেয়া হয়।

পোস্টকার্ড ক্যাম্পেইনে জানানো হয়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে কৃষিখাতে বাজেটের ৬.৬ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয় যা বিগত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে বরাদ্দ কমতে থাকলেও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কিছুটা বেড়ে তা ৫.৫ শতাংশে পৌছায়। কিন্তু তারপর থেকে কৃষিখাতে বরাদ্দ কমতে কমতে বর্তমানে ৪.৩ শতাংশে পৌছেছে যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত চার বছরে বাজেটের আকার ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও কৃষিখাতে বরাদ্দ কমেছে ১৫ শতাংশ এবং কৃষিতে ভর্তুকি কমেছে ২৫ শতাংশ।

পোস্টকার্ড ক্যাম্পেইনে কৃষিখাতে মোট বাজেটের ৭ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া এবং কৃষি উপকরণ ও মূল্য সহায়তা ভর্তুকি বাবদ মোট কৃষি উৎপাদনের ১০ শতাংশ বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানানো হয়।

পোস্টকার্ড ক্যাম্পেইনে অন্যান্যের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন খানজাহান আলী কৃষি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির খুলনা জেলা সংগঠক মনিরুল হক বাচ্চু, অক্সফ্যাম-এর জায়মা জাহিন খান, ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী, নাসিম রহমান কিরন, সূবর্ণা ইসলাম দিশা, রেজাউল করিম জিতু প্রমূখ।

Link: প্রধানমন্ত্রীর কাছে পোস্টকার্ড পাঠিয়ে কৃষিখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি

প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়

Bahumatrik.com
২৬ মে ২০১৬ বৃহস্পতিবার, ১১:০১  পিএম
---------------------------------------
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণবৈচিত্র্যের বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষা করা হয়েছে। তাই এ অঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কয়েক দশক পর অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা করার ছাড়া কোনো অঞ্চলেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিষয়টি খণ্ডিতভাবে ভাবার কোনো সুযোগ নেই। কেননা এ অঞ্চলের মাটি, পানি, বায়ুপ্রবাহ, লবণাক্ততা সবকিছুই প্রাণবৈচিত্র্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষ্যে স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

এ্যাওসেড, বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলন, উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), পরিবর্তন-খুলনা ও টিম থিয়েটারের যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার দত্ত এবং তথ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল। আলোচনা সভা শেষে বাংলাদেশের সুন্দরবন ও দক্ষিণাঞ্চলের পরিবেশবৈচিত্র্য বিষয়ক মনোজ্ঞ নাটক উপস্থাপন করে টীম থিয়েটার-এর নাট্যদল।

দক্ষিণাঞ্চলের সাম্প্রতিক উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে বক্তারা বলেন, মহাসড়ক ও বিদ্যুত সরবরাহে উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অপরিকল্পিত বেসরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে যা ভবিষ্যতে আবারও অভিশাপ হয়ে দেখা দিতে পারে। কোন ধরনের শিল্প-কারখানা বা অবকাঠামো কী ক্ষতি করবে সে সম্পর্কে গবেষণা ও পরিকল্পনা না করে বিনিয়োগ করলে তা লাভের চেয়ে ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা করে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন সম্ভব হলেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উন্নয়ন ও পরিবেশকে মুখোমুখি করা হয়েছে। ফলে ষাটের দশকের কাক্সিক্ষতি বেড়িবাঁধ আশির দশকে অভিশাপ হয়ে দেখা দেয়। উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে একই সঙ্গে ধান ও মাছ চাষ সম্ভব হলেও, ব্যাপকভাবে বিষের ব্যবহারের ফলে উপকূলীয় মৎস্য-সম্পদ পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করার চেয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে শস্য সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা দরকার। বক্তারা দ্রুততর সময়ে খুলনায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার দাবি জানান।

এ্যাওসেড-এর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফিন-এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাজমুল আযম ডেভিড। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ক্লিন-এর চেয়ারপারসন সাজ্জাদুর রহিম পান্থ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সংগঠক মনিরুল হক বাচ্চু, জিল্লুর রহমান, আইআরভি’র খালিদ পাশা জয়, সুশীলন-এর রবিউল ইসলাম, অ্যাডোর-এর বিপ্লব ভট্টাচার্য্য, বেডস্-এর ফেরদৌসী শারমিন, নবলোক-এর রিয়াদুল করিম, জনউদ্যোগ’র মহেন্দ্রনাথ সেন, সিডিপি’র ইকবাল হোসেন বিপ্লব, পরিবর্তন-খুলনা’র মোস্তাহিদুর রহমান বাবু, মাফরুদা খাতুন, ইমরান হোসেন ইমন, নিজেরা করি’র পবিত্র সরকার, মিজানুর রহমান, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা’র অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম, জিওন হেলথ্ ফাউন্ডেশনের সাইফুল ইসলাম মোহন, পরিবেশকর্মী জামিল আহমেদ, এ্যাওসেড-এর আব্দুর রহিম, সুমন বিশ্বাস, ক্লিন-এর রেজাউল করিম জিতু, সুবর্ণা ইসলাম দিশা, নাসিম রহমান কিরন প্রমূখ।